মে ২৯, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও গভীর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবী নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড দেখতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের আগেই ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত একটি বছর ২০২৪ সালকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড গড়তে পারে। এই সম্ভাবনার হার ৮৬ শতাংশ। একই সময়ে পাঁচ বছরের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব যুগের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার অব্যাহত থাকায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও ঝড়ের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে।
জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক কর্মকর্তা সাইমন স্টিয়েল বলেছেন, সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ জলবায়ু সংকটের বাস্তবতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তাঁর মতে, মানুষ, অর্থনীতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমাতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে ‘এল নিনো’ নামের প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা ফিরে আসতে পারে। সাধারণত এই পরিস্থিতিতে প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দেয়। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, এর প্রভাব ২০২৭ সালকে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ার পথে নিয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তাপপ্রবাহ, খরা, ঝড় ও বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়বে। এতে মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। তাদের মতে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।