জুন ৮, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, ছবি: সংগৃহীত।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা ও নীতিমালা আরও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে প্রযুক্তিভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন অবকাঠামোগত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
সোমবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতের কারণে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রী জানান, আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে আগাম বজ্রপাতের পূর্বাভাস তৈরি করে তা গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্বয়ংক্রিয় কণ্ঠসেবার মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ, প্রশিক্ষণ এবং মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে।
গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বজ্রনিরোধক দণ্ডসংবলিত কৃষক ছাউনি নির্মাণ এবং ব্যাপকভাবে তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, টর্নেডো, কালবৈশাখী ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক আইন, নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা।
তিনি জানান, পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যমান পরিকল্পনাগুলো হালনাগাদের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্থায়ী নির্দেশনা সংশোধন এবং ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের নতুন জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করেছেন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি মোকাবিলা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।