কক্সবাজার সৈকতে টর্নেডোর আঘাত, আতঙ্কিত পর্যটকরা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

কক্সবাজার সৈকতে টর্নেডোর আঘাত, আতঙ্কিত পর্যটকরা

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে হঠাৎ আঘাত হেনেছে টর্নেডো। শুক্রবার বিকেল পৌনে তিনটার দিকে আঘাত হানা এই টর্নেডো প্রায় তিন থেকে পাঁচ মিনিট স্থায়ী ছিল। এতে সৈকতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।

তবে টর্নেডোর আঘাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় সৈকতে পর্যটকদের জন্য রাখা অর্ধশতাধিক চেয়ার ও ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাগরের দিক থেকে ঘূর্ণায়মান বাতাস ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে সেটি সৈকতের একটি অংশে আঘাত হানে। কয়েক মিনিটের এই ঘটনায় বাতাসের তীব্রতায় সৈকতে থাকা চেয়ার, ছাতা ও বিভিন্ন হালকা সামগ্রী উড়ে যেতে থাকে। আতঙ্কিত পর্যটকেরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।

কক্সবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান জানান, সাগরের দিক থেকে উঠে আসা টর্নেডোটি সুগন্ধা পয়েন্টে আঘাত হানে। এতে পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার এবং ৬১টি ছাতা ভেঙে যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, টর্নেডোর তাণ্ডব অল্প সময় স্থায়ী হলেও এর গতি ছিল বেশ প্রবল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পর্যটকেরা ধীরে ধীরে আবার সৈকতে ফিরতে শুরু করেন। ক্ষতিগ্রস্ত চেয়ার ও ছাতা সরিয়ে সৈকতের পরিবেশ স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, সাগরপারে দেখা ঘূর্ণি বাতাসটি আসলে একটি টর্নেডো ছিল। তবে এটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। তিনি বলেন, এ ধরনের টর্নেডো সাধারণত খুবই ধ্বংসাত্মক হতে পারে এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, টর্নেডোর ঘূর্ণায়মান অংশ, যা দেখতে হাতির শুঁড়ের মতো মনে হয়, সেটি যাকে স্পর্শ করে তাকে অনেক দূরে ছুড়ে ফেলতে পারে এবং আশপাশের জিনিসপত্র দুমড়ে-মুচড়ে দিতে পারে।

Link copied!