খুলনায় কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ: মায়ের স্বীকারোক্তিতে মিলল হত্যার রহস্য

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ১১, ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম

খুলনায় কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ: মায়ের স্বীকারোক্তিতে মিলল হত্যার রহস্য

ছবি: সংগৃহীত

পারিবারিক কলহের জেরে হত্যার পর মরদেহ ফেলে আসে মা-বাবা, পলাতক বাবাকে খুঁজছে পুলিশ

খুলনায় বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এক কিশোরীর মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মরদেহ বস্তায় ভরে অন্য এলাকায় ফেলে আসেন তার মা-বাবা। এ ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের মা।

শনিবার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ৮ জুলাই নগরীর নিরালা প্রান্তিক আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়ক থেকে বস্তাবন্দি এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, নিহত কিশোরীর নাম আরফানা হোসেন নির্জনা। তিনি নগরীর বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আলিম হোসেন আকাশ ও আরিফা ইয়াসমিন সীমা দম্পতির একমাত্র মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনার পর ১০ জুলাই পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্তের একপর্যায়ে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, সীমার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্জনা অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালে এক বিবাহিত যুবককে বিয়ে করেছিলেন। পরে রনি নামে আরেক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার আগে টানা তিন দিন বাড়ির বাইরে থাকাকে কেন্দ্র করে পরিবারে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার রাতে মা ও মেয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সীমা মেয়েকে মারধর করেন। পরে বাবা আলিম হোসেন আকাশ পাশের কক্ষ থেকে একটি কাঠের বাতা এনে নির্জনার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পরে ঘটনা আড়াল করতে মা-বাবা মিলে মরদেহ বস্তাবন্দি করে অন্য এলাকায় ফেলে আসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, নির্জনার বাবা আলিম হোসেন আকাশ বর্তমানে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রাথমিক তদন্তে আকাশ ও তার স্ত্রী সীমা মাদকাসক্ত বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

Link copied!