জুলাই ১০, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
টানা বর্ষণের পর খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এখনো যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী এলাকার পানি সরে যাওয়ায় শুক্রবার থেকে বাঘাইহাট–মাচালং–সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। একই সঙ্গে সাজেক থেকে আটকে পড়া পর্যটকরাও ফিরেছেন।
তবে দীঘিনালা–লংগদু এবং খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কে টানা তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মহালছড়ি উপজেলায় একটি সেতু পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মুবাছড়ি এলাকার সঙ্গে উপজেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে পানি কমতে শুরু করায় কবাখালী সড়ক থেকে পানি নেমে গেছে। একই সঙ্গে উপজেলার মাইনী নদীর পানিও কমছে। তবে নিম্নাঞ্চল হওয়ায় মেরুং ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম এখনো প্লাবিত রয়েছে।
তিনি জানান, উপজেলার ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সাত হাজারের বেশি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মেরুং ইউনিয়নের বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, আমাদের ঘর-বাড়ি ডুবে গেছে। সড়কও বন্ধ। খুব ভোগান্তিতে আছি। কবে পানি নামবে সেটিও বলা যাচ্ছে না।
এদিকে চেঙ্গী নদীর পানি কমতে শুরু করায় খাগড়াছড়ি শহরের বটতলী, মহিলা কলেজ এলাকা, টিটিসি ও রাজ্যমণিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে নিচের বাজার ও গঞ্জপাড়া এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে।
পানি কমে যাওয়ায় অনেক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
এর আগে সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে দীঘিনালা–লংগদু সড়কের স্টিল ব্রিজ, ছোট মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকা এবং খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও লিমুছড়ি এলাকায় সড়কের ওপর পানি উঠে যায়। এতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে জেলায় বন্যার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। এর মধ্যে মহালছড়ি–গুইমারা সড়কের সিন্দুকছড়ি এবং খাগড়াছড়ি শহরের শালবন, কুমিল্লাটিলা ও হরিনাথপাড়া গ্যাপ এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও অধিকাংশ মানুষ বাড়ি ছাড়েননি।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া লোকজন এবং পানিবন্দি পরিবারগুলোকে খিচুড়ি, পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে।