ছবি: এপি
দক্ষিণ স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে এই অগ্নিকাণ্ড। শুক্রবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
আলমেরিয়া অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে নিহত কয়েকজনের মরদেহ পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ১৫০ জন দমকলকর্মী এবং স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিটের ২২০ জন সদস্য।
আঞ্চলিক জরুরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন ব্রিটিশ নাগরিক হতে পারেন। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক নেতা হুয়ান ম্যানুয়েল মোরেনো ক্যাদেনা সের রেডিওকে জানিয়েছেন, এখনো ১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দাবানলে মৃতের সংখ্যা ১২ জন। তবে শুক্রবার সকালে সেই সংখ্যা সংশোধন করে ১১ জন করা হয়।
আলমেরিয়ার সিয়েরা দে লস ফিলাব্রেস পর্বতমালার কাছে একটি আধা-শুষ্ক এলাকায় অবস্থিত ছোট একটি গ্রামে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, একটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, যা দ্রুত পাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
দাবানলের কারণে বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, আলমেরিয়া প্রদেশে আগুনের ভয়াবহ পরিণতির মুখে আমি গভীর দুঃখ ও বেদনা অনুভব করছি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেন ঘন ঘন ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছে। দেশটির অনেক এলাকায় তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড বাতাস, অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির ঘাটতির কারণে ছোটখাটো আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
জুন মাসে স্পেনে কয়েক দিন ধরে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা যায়। এ সময় অতিরিক্ত গরমের কারণে ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
গত ছয় সপ্তাহে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় এটি তৃতীয় তাপপ্রবাহ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশক থেকে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপে তাপমাত্রা দ্বিগুণ দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সাল ছিল বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় উষ্ণতম বছর, যা ইউরোপজুড়ে বেশ কয়েকটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে এনেছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন, গ্যাসোলিন, তেল ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল দাবানলের ঝুঁকিতে আরও বেশি পড়ছে।
তথ্যসূত্র: এপি