জুলাই ২৩, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
সাতক্ষীরা–৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, ছবি: সংগৃহীত।
জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হলেও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, বিষয়টি সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনে এলে আইন অনুযায়ী শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা মাত্রই তার আসন শূন্য হয় না। এ ক্ষেত্রে সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
ইসি আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার বা সংসদ যদি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠায়, তাহলে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এমন কোনো স্পষ্ট বিধান নেই।
অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও সংসদ সদস্য বিরোধ নির্ধারণ আইন অনুযায়ী, কোনো সদস্যের যোগ্যতা বা আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। বিরোধ উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে তা কমিশনে পাঠানোর বিধান রয়েছে।
পরে নির্বাচন কমিশন দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার প্রয়োগ করে শুনানি গ্রহণ করবে এবং সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত স্পিকারকে জানাবে। আইন অনুযায়ী, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।