ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ১৪, ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশ শ্রমমন্ত্রীর

শুক্রবার ঢাকায় নিজ সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় কথা বলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের সব শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও উৎসব বোনাস দ্রুত পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ঈদের ছুটির আগেই শ্রমিকদের প্রাপ্য পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর বেইলি রোডে শ্রমমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও নন-আরএমজি খাতে সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ নিরসন নিয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় মন্ত্রী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে সংসদীয় এলাকা ভিত্তিক একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ওই তালিকা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে দেওয়া হবে, যাতে তারা সরাসরি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করতে পারেন।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যেসব ব্যাংক শিল্পকারখানাকে ঋণ দিতে গড়িমসি করছে—সেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন শ্রমমন্ত্রী।

শ্রম খাতে অস্থিরতা তৈরির বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, কিছু শ্রমিক নেতা অযথা শ্রমিকদের উসকে দিয়ে শিল্পখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব কারখানার মালিক পলাতক রয়েছেন বা কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। সেখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কঠোর নজরদারি রাখার নির্দেশনাও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সভায় জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২ হাজার ১২৭টি কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৯৬৪টি কারখানা ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে, যা মোটের প্রায় ৯২ শতাংশ। এছাড়া ১ হাজার ৫৩৫টি কারখানা ঈদের বোনাসও পরিশোধ করেছে।

অন্যদিকে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তাদের আওতাধীন ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ৫১২টি কারখানা ফেব্রুয়ারির বেতন এবং ৬০৪টি কারখানা ঈদের বোনাস দিয়েছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করায় বড় ধরনের শ্রম অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, একটি আপৎকালীন তহবিল গঠন করা গেলে ভবিষ্যতে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সংক্রান্ত সংকট অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব হবে।

এ সময় সভায় কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Link copied!