ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। নতুন করে আগামী ২৯ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আজ রবিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। এ নিয়ে তিনবার হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ানো হলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ থাকলেও তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শরীফ ওসমান হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় তিনি হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটিতে হত্যা মামলার ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। এরপর থানা পুলিশ হয়ে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশের কাছে।
ডিবি পুলিশ গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চ।
এরপর গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিনের সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওই দিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেন তিনি। পরে আদালত মামলাটির পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়ে সিআইডিকে দায়িত্ব দেন।
ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।