জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল নিয়ে বড় সুখবর এসেছে। মূল বেতনের পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ও পেনশনের হারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন।
আজ বুধবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নবম পে-স্কেল সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পান। নতুন পে-স্কেলে এই ভাতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও উৎসবের গুরুত্ব বিবেচনায় সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন এ প্রস্তাব দিয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গ্রেডভেদে বেতন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী—
পেনশনভোগীদের জন্যও প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতার আওতা সম্প্রসারণ এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বেশি হারে বাড়িভাড়া দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা বিভিন্ন কমিটিতে যাচাই-বাছাই করা হবে, যা সম্পন্ন হতে সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর গত ১০ বছর ধরে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি চাকরিজীবী একই বেতন কাঠামোর আওতায় ছিলেন। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনযাত্রার মান ও কর্মস্পৃহা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।