জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
ছবি- ভিডিও থেকে নেওয়া
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা দাবি করে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।
ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার ‘রিফর্ম’ করা হয়েছে এবং প্রশাসন আন্দোলনের পক্ষেই রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অতীতের সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে ওসির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
এ বিষয়ে জানতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ এনামুল হাসান নয়ন নামের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তথ্য। পরে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় গিয়ে আটক ব্যক্তিকে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ রাজি না হলে ওসির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মাহদী হাসান। একপর্যায়ে চাপের মুখে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মাহদী হাসান বলেন, রাগের মাথায় কথা বলার সময় ‘স্লিপ অব টাং’ হয়েছে। পরে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।
জেলার পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ওসির কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, নয়ন নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তাকে আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন এমন ছবি ও ভিডিও প্রমাণ দেখান। সেই সময় থানার ভেতরে কথাবার্তার একপর্যায়ে ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
আটক ব্যক্তি বর্তমানে ছাত্রলীগ নেতা কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, তিনি একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে, তবে বর্তমানে সক্রিয় নেই।