যশোরে বিদ্যুৎবিহীন-তালাবদ্ধ রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন, পুড়েছে ৩০০ বছরের পুরনো দলিল

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

যশোরে বিদ্যুৎবিহীন-তালাবদ্ধ রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন, পুড়েছে ৩০০ বছরের পুরনো দলিল

ছবি : সংগৃহীত

যশোর জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে সংঘটিত এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে প্রায় তিনশ বছরের পুরনো মূল্যবান দলিলপত্র। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভবনটি থেকে হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুন উঠতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগেই রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত বিপুলসংখ্যক পুরনো কাগজপত্র আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, আগুন লাগার সময় ভবনটির গেটে তালা দেওয়া ছিল এবং ভেতরে কোনো স্টাফ উপস্থিত ছিলেন না। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, ভবনের দুটি কক্ষে রাখা পুরনো দলিল ও কাগজপত্র পুড়ে গেছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন জানান, ওই রেকর্ড রুমে ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র ও টিপবই সংরক্ষণ করা ছিল। খুব প্রয়োজন ছাড়া ভবনের দরজা সাধারণত খোলা হতো না। আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিনি দেখেন, অধিকাংশ পুরনো কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যেগুলো অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলোও পানি পড়ে নষ্ট হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব জানাতে পারবেন বলে তিনি জানান।

আগুনের খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন বলেন, ভবনের গেটে সাধারণত তালা দেওয়া থাকে এবং সেখানে হিরা নামে একজন নৈশ প্রহরীর দায়িত্বে থাকার কথা। তবে আগুন লাগার সময় তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

এদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র দাবি করেছে, আগুন লাগার ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক। ভবনটির ভেতরে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা নেই। পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্রটি আরও জানায়, নৈশ প্রহরী হিরাসহ সাইফুল ও মিলন নামে আরও দুই কর্মীর আচরণ সন্দেহজনক। পুলিশ প্রশাসন বিস্তারিত অনুসন্ধান চালালে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হতে পারে।

Link copied!