দেড় মাসের ব্যবধানে মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে দুই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ডিসেম্বর ২, ২০২২, ১১:০৯ পিএম

দেড় মাসের ব্যবধানে মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে দুই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

নরসিংদী সদর উপজেলার একটি মাদারাসা শৌচাগারের ভেতর থেকে এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  

নিহত মাইশা (১০) মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে মাধবদী ভগীরথপুর গ্রামের মো. নেছার উদ্দিনের মেয়ে।

বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার মাধবদী থানার কুঁড়েরপাড় এলাকার জামিয়া কওমিয়া মহিলা মাদরাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ১৯ অক্টোবর বিকেলে এই মাদ্রাসারই অন্য একটি শৌচাগারের ভেতর থেকে আফরিন আক্তার (১৬) নামের আরেক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। দেড় মাসের মধ্যে মাদ্রাসাটির শৌচাগারের ভেতর থেকে দুই ছাত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার শেখেরচরের কুড়েরপাড়ের জামিয়া কওমিয়া মহিলা মাদ্রাসার শৌচাগারের ভেন্টিলেটরের গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মাইশা আক্তারকে উদ্ধার করা হয়। ওই অবস্থায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শৌচাগারের ভেন্টিলেটরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে পেয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অপরদিকে পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মাইশার মা বলেন, “আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তার সারা শরীরে মাইরের চিহ্ন আছে। আমি খুনের বিচার চাই। মাদরাসার হুজুরই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।“

নরসিংদী সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল উদ্দিন খান বলেন, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার গলায় ফাঁসের চিহ্ন ছাড়াও কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুল বলেন, “শিক্ষকরা আমাকে ফোন দিয়ে জানান, একজন ছাত্রীকে মাদরাসার বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে তারা হাসপাতালে নিয়ে যায় ও মেয়েটির মৃত্যু হয়। তবে ঘটনাটি কিভাবে ঘটল আমি বলতে পারছি না।“

Link copied!