শনিবার ১ অক্টোবর ২০২২
      Beta
বিক্ষোভ-আন্দোলনে তিনজন নিহত হয়েছে বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুদিস্তান প্রদেশের গভর্নর ইসমাইল জারেই কুশা। ছবি: সংগৃহীত

হিজাব-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, পুলিশসহ ৯ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৩৬:০০ পূর্বাহ্ন | বিশ্ব

পুলিশের হেফাজতে মাশা আমিনি নোমে এক তরুণীর মৃত্যুর পর হিজাব-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। দেশটির উরমিয়া, পিরানশাহরসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশের গুলিতে বুধবার তিনজন নিহত হয়েছেন। এনিয়ে বিক্ষোভ শুরু থেকে বুধবার পর্যন্ত  ৬ দিনে পুলিশের এক  সদস্যসহ ৯ প্রাণ হারালেন।  

পুলিশি হেফাজতে মাশা আমিনির মৃত্যুর প্রতিবাদে সৃষ্ট বিক্ষোভ-আন্দোলনে তিনজন নিহত হয়েছে বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুদিস্তান প্রদেশের গভর্নর ইসমাইল জারেই কুশা। তবে হত্যার দায় অন্যকে দিয়ে  তিনি জানান, রাষ্ট্রবিরোধী চক্র তিনজনকে হত্যা করেছে।

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, বিক্ষোভকারীদের পুলিশকে ধাওয়া করা, গুলির শব্দ এবং মেয়েদের হিজাবে আগুন লাগানো - ইত্যাদি দৃশ্য দেখা গেছে। বিক্ষোভ-আন্দোলনের একবারের সামনের সারিতে রয়েছেন দেশটির নারীরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হিজাববিরোধী বিক্ষোভ আন্দোলনের ৫ম দিন মঙ্গলবার নারীরা সারি শহরে আগুন দিয়ে তাদের হিজাব জ্বালিয়ে দেন। এসময় উপস্থিত স্থানীয়রা  উল্লাস করেন।

উরমিয়া, পিরানশাহর এবং কেরমানশাহে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত তিন বিক্ষোভকারীর মধ্যে একজন মহিলাও রয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করেন

প্রসঙ্গত, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সাকেজ থেকে আসা ২২-বছর বয়সী কুর্দি নারী মাশা আমিনি কোমায় তিন দিন কাটানোর পর শুক্রবার হাসপাতালে মারা যান।

গত সপ্তাহে আমিনি তার সাকাজের বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজধানী তেহরানে গিয়েছিলেন। এসময় 'অযথাযথ' হিজাব পরার কারণে পুলিশ তাকে আটক করে। আমিনির বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ, তিনি নারীদের হিজাব বা চাদর দিয়ে চুল ঢেকে রাখা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরার আইন ভঙ্গ করেছেন। পুলিশের একটি ডিটেনশন সেন্টারে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরপরই তিনি কোমায় চলে যান এবং মারা যান।

ইরারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে মাশা আমিনির সঙ্গে কোনো দুর্ব্যবহার করা হয়নি। "হঠাৎ করে তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া" বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি ইরানি পুলিশের। তবে আমিনির পরিবারের মতে মাশা আমিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন।

আমিনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হচ্ছে। প্রথমে তার জন্মনগরী সাকাজে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে কুর্দিস্তানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। টুইটারে আমিনির নাম ৫০ লাখের বেশিবার উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের আরো অনেক নগরীতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।