আগস্ট ২, ২০২৪, ০২:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সেলিম তালুকদার (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, তিনি ছিলেন পেশায় পোশাকশ্রমিক। নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে তার মৃত্যুর পর শুক্রবার (২ আগস্ট) সকালে গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মল্লিকপুর টিঅ্যান্ডটি এলাকায় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গত ১৮ জুলাই কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ১৫ দিন হাসপাতালে থাকার পর গতকাল সকাল আটটার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাড্ডা লিংক রোডের বাসায় তার লাশ নেওয়া হয়। সেখানে তার প্রথম নামাজে জানাজা হয়।
এরপর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গ্রামে তার লাশ পৌঁছালে আত্মীয়স্বজন ও সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
৩ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে সেলিম ছিলেন মা-বাবার দ্বিতীয় সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। সেলিম নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর টিঅ্যান্ডটি এলাকার সুলতান তালুকদারের ছেলে। তাঁরা সপরিবার বাড্ডা লিংক রোডে বসবাস করতেন।
নিহত সেলিম বিজিএমই ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ২ বছর আগে স্নাতক সম্পন্ন করে নারায়ণগঞ্জের মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং মিলস লিমিটেডের সহকারী মার্চেন্ডাইজার পদে চাকরি করতেন।
সেলিমের বাবা সুলতান তালুকদার বলেন, “ঘটনার দিন বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশে রওনা দিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান। এ সময় মাথা, বুক ও পিঠে তার গুলি লাগে। ফুসফুসেও গুলি লাগে। সেলিমের মুঠোফোন থেকে কল করে এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা জানান। পরে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করেন। চারদিন বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে শেষে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”