দুর্নীতির সঙ্গে কোন আপস করবে না বিএনপি: তারেক রহমান

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১২:২২ পিএম

দুর্নীতির সঙ্গে কোন আপস করবে না বিএনপি: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান | ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বাভাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি ঘোষণা করেছে। দলটি জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে তারা দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করবে না এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এই অঙ্গীকার জানান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ইশতেহারে বলা হয়েছে,

বিএনপি মনে করে, সুশাসন উন্নয়নের মূল ভিত্তি। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি হবে ইনসাফ। সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে, দুর্নীতি ও অর্থপাচার দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা বিএনপির সুশাসন দর্শনের মূল। দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণর হবে সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার।

বিএনপি দাবি করেছে, সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বজুড়ে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে মুক্ত করা হবে। ইশতেহারে বলা হয়েছে,

বিএনপি ২০০১ সালে যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন দেশটি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল, ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের অপবাদ থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইপার হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এছাড়া উল্লেখ করা হয়েছে,

এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি দুর্নীতির সাথে কোন আপস করবে না। সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য পদ্ধতিগত ও আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। উন্মুক্ত দরপত্র, রিয়েল টাইম অডিট, প্রকল্পের ‘পারফরম্যান্স অডিট’ এবং সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থপাচার রোধ ও ফ্যাসিবাদী আমলের পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আইনের শাসনের নামে কোনো অনৈতিক বা বেআইনি কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য হবে না বলে ইশতেহারে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,

বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে। জুলাই-আগস্ট-২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানসহ ফ্যাসিস্ট আমলের মানবতা বিরোধী অপরাধের সুবিচার নিশ্চিত করা হবে। সে সকল হত্যাকাণ্ডের অনুসন্ধান শুরু করে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে। গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মেধাভিত্তিক মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ গড়তে স্বচ্ছভাবে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।

ইশতেহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে প্রশাসনিক সংস্থা ও পিএসসি শক্তিশালী করা হবে, জবাবদিহিমূলক ও দলীয়করণমুক্ত জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত বিচার প্রাপ্তি এবং আধুনিকায়িত বিচার সেবা নিশ্চিত করা হবে। বিচারপতি নিয়োগ আইন প্রণয়ন ও জুডিশিয়ান কমিশন গঠন করা হবে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে।

সাথে পুলিশকে জনবান্ধব ও সেবামুখী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি অনলাইন অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও পুলিশ কমিশন আইন পুনঃনিরীক্ষণ করা হবে।

Link copied!