ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওমানে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পর গতকাল শুক্রবার তিনি এ কথা বলেন।
ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও আলোচনা আশা করছে। এক দিনের এ আলোচনায় উপসাগরীয় দেশ ওমানে ‘ইতিবাচক পরিবেশের’ প্রশংসা করেছে তেহরান।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বিমানবাহী রণতরির নেতৃত্বে একটি মার্কিন নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছিলেন। নৌবহরটি এখনও ইরানের জলসীমার কাছে অবস্থান করছে।
উত্তেজনা হ্রাসে ওমানের মধ্যস্থতায় মাসকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল আলোচনা করেছে। তবে তারা সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা করেনি।
তবে আলোচনার কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশটির তেল পরিবহন–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
গত বছর জুনে ইসরায়েল–ইরান ১২ দিনের যুদ্ধের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই হামলার পর এটি দুই বৈরী দেশের মধ্যে প্রথম আলোচনার ঘটনা।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানের ভেতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন,
ইরান ইস্যুতেও আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আমরা আবার বৈঠকে বসব।
এর আগে তিনি বলেছিলেন,
ওরা (ইরান) যদি কোনো চুক্তি না করে, তাহলে পরিণতি হবে খুবই কঠোর।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সপ্তাহজুড়ে উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার পর গতকাল ওমানে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানের রাজধানী মাসকটে গিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন,
আমি বলতে পারি, যদি আমরা এমন ইতিবাচক পথে এগিয়ে যেতে পারি, তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা ইতিবাচক এক কাঠামোয় পৌঁছাতে পারবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাসকটে পরোক্ষভাবে ‘একাধিক বৈঠক’ হয়েছে।
ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ বিষয়েও ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। গতকাল তিনি বলেন,
রাশিয়া–ইউক্রেন ইস্যুতে আজ (গতকাল শুক্রবার) খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। কিছু একটা ঘটতে পারে।
তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি, তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান এই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।