মা, ভাইবোনদের বাঁচাতে সমুদ্রে ৪ ঘণ্টা সাঁতরাল কিশোর

ইউএনবি

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

মা, ভাইবোনদের বাঁচাতে সমুদ্রে ৪ ঘণ্টা সাঁতরাল কিশোর

সমুদ্র থেকে বেঁচে ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার গিজডেগ্যানাপে (বাঁ থেকে) অস্টিন বিউ, মা জোয়ানে, গ্রেস ও অস্টিন। মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি। ব্রিয়ানা শেপার্ড/এপি

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ছোট ভাইবোনকে বাঁচাতে তীব্র ঠান্ডা পানিতে উত্তাল সমুদ্রে চার ঘণ্টা সাঁতরেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পার্থের বাসিন্দা ওই পরিবারটি কায়াক (ছোট নৌকা) এবং প্যাডেলবোর্ড নিয়ে সাগরে নেমেছিল। এর মধ্যে উত্তাল সমুদ্র এবং প্রবল বাতাস তাদের টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর প্রায় ৪ কিলোমিটার সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছায় কিশোর অস্টিন অ্যাপেলবি এবং মা, ভাইবোনদের উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অস্টিন বলে, ‘ঢেউগুলো ছিল বিশাল এবং আমার গায়ে কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না।… আমি শুধু ভাবছিলাম—শুধু সাঁতার কাটতে থাকো, সাঁতার কাটতে থাকো। একসময় আমি তীরে পৌঁছাতে পারি এবং সৈকতে আঘাত করি ও পড়ে যাই।’

সে আরও জানায়, কায়াকে যাওয়ার সময় প্রথমে সে লাইফ জ্যাকেট পরেছিল। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং প্যাডেলবোর্ডটি পানিতে ডুবে যাচ্ছিল, তাই সে সেটি থেকে নেমে পড়ে। এরপর সাঁতার কাটতে সমস্যা হওয়ায় লাইফ জ্যাকেটটিও খুলে ফেলে। তার ভাষ্য, তখন ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করে সে।

সেদিন দুপুরের আগেই পরিবারটি তাদের সমুদ্র অভিযানে বেরিয়ে পড়েছিল। অস্টিনের কর্তৃপক্ষকে জানাতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায় এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মা জোয়ান অ্যাপেলবি (৪৭), ভাই বিউ (১২) এবং বোন গ্রেসকে (৮) উদ্ধার করে একটি হেলিকপ্টার।

পরিবারটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের কুইন্ডালুপ থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সমুদ্রের গভীরে ভেসে গিয়েছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা তারা পানিতে ভেসেছিল।

স্থানীয় পুলিশ পরিদর্শক জেমস ব্র্যাডলি বলেন, ছেলেটির কাজের কেবল প্রশংসাই যথেষ্ট নয়, তার দৃঢ় সংকল্প এবং সাহস তার মা এবং ভাইবোনদের জীবন বাঁচিয়েছে।

জোয়ান অ্যাপেলবি সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো ছেলেমেয়েদের সাগরের মাঝখানে রেখে তীরে চলে আসতে পারি না! তাই বড় ছেলেকে পাঠাই।

অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে তিনি বলেন, আমার জীবনে নেওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল অস্টিনকে বলা— চেষ্টা করো, তীরে গিয়ে সাহায্য নাও। কারণ আমরা খুব শিগগিরই বড় বিপদে পড়তে পারি।

তিনি আরও বলেন, শুরুতে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে অস্টিন তীরে পৌঁছাবে, কিন্তু যখন সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে এবং তখনও আমাদের কাছে সাহায্য পৌঁছায়নি, তখন ছেলের বিষয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল।

জোয়ান অ্যাপেলবি বলেন, যখন আমাদের উদ্ধার করা হয়, তখন আমরা তিনজনই কাঁপছিলাম। তীব্র ঠান্ডায় বিউয়ের পা তো অবশই হয়ে গিয়েছিল। তবে আমার তিনটি বাচ্চা, তিনজনই বেঁচে আছে—এটাই আসল কথা।

Link copied!