জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে দেশটিকে স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে ইরান সরকার। দেশটির ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের মতে, ভবিষ্যতে কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাই বৈশ্বিক ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার পাবেন।
ইরানের ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষক সংস্থা ফিল্টারওয়াচের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে সরকারি বিশেষ সুবিধায় পরিণত করার জন্য একটি গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংস্থার মতে, সরকারি সূত্র ও মিডিয়ার ইঙ্গিত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পর সাধারণ মানুষের জন্য বৈশ্বিক ইন্টারনেট সীমিত বা বন্ধ করা হতে পারে।
ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রাশিদি জানান, নতুন নীতি অনুযায়ী কেবল নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত বা সরকারের নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া পাস করা ব্যবহারকারীরাই বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যরা শুধুমাত্র ইরানের ভেতরে সীমাবদ্ধ ‘জাতীয় ইন্টারনেট’-এ সংযুক্ত থাকবেন।
গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে কার্যত ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। এর আগে দেশজুড়ে ১২ দিন ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলেছিল। এই আন্দোলনের সময় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। কঠোর দমন-পীড়নের কারণে বিক্ষোভের তীব্রতা কিছুটা কমলেও, তথ্যপ্রবাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্লেষকেরা এটিকে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও কঠোর ইন্টারনেট শাটডাউন হিসেবে উল্লেখ করছেন। রাশিদি বলেন, সরকার বর্তমান সীমিত ইন্টারনেট ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট এবং শাটডাউন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান গত ১৬ বছর ধরে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে একটি কৌশল হলো ‘হোয়াইটলিস্টিং’—যেখানে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীরাই বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। গবেষকরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তির পিছনে চীনের সহায়তা থাকতে পারে। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিডলবক্স’ নামের যন্ত্র ব্যবহার করে পুরো দেশের ইন্টারনেট ট্র্যাফিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে গড়ে তোলা হয়েছে ‘জাতীয় ইন্টারনেট’—যা কেবল ইরানের ভেতর থেকে ব্যবহারযোগ্য। এখানে রয়েছে সরকার নিয়ন্ত্রিত মেসেজিং অ্যাপ, সার্চ ইঞ্জিন, নেভিগেশন সেবা ও নেটফ্লিক্সের মতো ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। তবে পুরোপুরি নজরদারির আওতায় থাকা এই ব্যবস্থা বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন।
২০০৯ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ইরান প্রথমবার ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ করেছিল এবং বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল। এরপর থেকে ধাপে ধাপে ‘জাতীয় ইন্টারনেট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।