ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বহুদিন ধরে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানালেও সরকার শুধু নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। আজ (মঙ্গলবার) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই একটি সরকারি আদেশ জারি হবে।’
নামের সঙ্গে বাহিনীর পোশাকেও পরিবর্তন আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসআইএফ সদস্যদের নতুন পোশাকে দেখতে পাবেন।’
র্যাব গঠিত হয় ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়। পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের নিয়ে এই বিশেষ বাহিনী গঠিত হয়। তবে পরে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর নামে বহু বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ওঠে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা যেমন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, তেমনি বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও মানবাধিকার আন্দোলন র্যাব বিলুপ্তির আহ্বান জানালেও সরকার সাড়া দেয়নি। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব এবং এর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, এরপর ‘ক্রসফায়ার’ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়।
সবশেষ ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ও র্যাব বিলুপ্তি এবং সীমান্তরক্ষা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমকে নির্দিষ্টভাবে সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু এসব আহ্বানের সাড়া না দিয়ে, র্যাব গঠনের ২২ বছর পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাহিনীর নাম পরিবর্তন করেছে।