জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন সতর্কতা উপেক্ষা করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। এর ফলে জাতিসংঘের অধিভুক্ত সংস্থাটি তাদের অন্যতম বড় অর্থদাতাকে হারাল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এক বিবৃতিতে জানায়, মহামারি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচওর কথিত ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে অক্ষমতা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সংস্থাটি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বছর আগে একটি নির্বাহী আদেশে ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় সংস্থাটি চীনের প্রতি অতিরিক্ত পক্ষপাত দেখিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি ডব্লিউএইচওর তীব্র সমালোচনা করেন।
তবে ডব্লিউএইচও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আডানম গেব্রেয়েসুস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়া শুধু ডব্লিউএইচওর জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। ডব্লিউএইচও তাদের কার্যক্রমের উদাহরণ হিসেবে পোলিও নির্মূল, এইচআইভি প্রতিরোধ, মাতৃমৃত্যু হ্রাস এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তির কথা তুলে ধরে।
ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ডব্লিউএইচওর অন্যতম বৃহৎ অর্থদাতা হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তারা নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ করেনি। এর ফলে সংস্থাটিতে ব্যাপক চাকরি ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ডব্লিউএইচও’র আইনজীবীরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার (১৯৩ মিলিয়ন পাউন্ড) বকেয়া রয়েছে, যা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আছে। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, এই অর্থ পরিশোধের কোনো কারণ তারা দেখছে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওতে দেওয়া সব ধরনের সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেনেভায় সদর দফতরসহ বিশ্বজুড়ে সংস্থার বিভিন্ন অফিস থেকে মার্কিন কর্মী ও ঠিকাদারদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডব্লিউএইচওর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত যৌথ কার্যক্রমও স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, ডব্লিউএইচও যুক্তরাষ্ট্রের অবদানকে ‘কলঙ্কিত ও ধ্বংস’ করেছে। তাদের দাবি, সংস্থাটি তার মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে বারবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে এবং এমনকি জেনেভার সদর দফতরে থাকা মার্কিন পতাকা ফিরিয়ে দিতেও ব্যর্থ হয়েছে। তারা আরও বলেন, ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচওর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কেবল প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং মার্কিন জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য গত এক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আডানম গেব্রেয়েসুস বলেন, তিনি আশা করেন যুক্তরাষ্ট্র আবার সংস্থাটিতে ফিরে আসবে। একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিল গেটসও।