হাদি হত্যায় আসামি রুবেলের দায় স্বীকার

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

হাদি হত্যায় আসামি রুবেলের দায় স্বীকার

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুবেল আহমেদ (৩৩) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান।

তিনি জানান, দুই দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রুবেলকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। এ সময় রুবেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে তা রেকর্ডের জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরদিন আদালত তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আরও তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে তিনি হামলার শিকার হন। চলন্ত একটি রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা এক ব্যক্তি তাকে গুলি করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর সেদিন রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন পর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

হাদিকে গুলি করার ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা যুক্ত করা হয়। থানার মাধ্যমে মামলাটি প্রথমে ডিবি পুলিশের কাছে যায়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ গত ৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগকর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলো— প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭), হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। এদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিনের সময় চান বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন। ওই দিন ডিবি পুলিশের অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করেন তিনি। পরে আদালত মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

Link copied!