ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদের ইমাম বারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী।
শুক্রবার গভীর রাতে নওশেরা জেলার হাকিমাবাদ এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি হয়। এতে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হন এবং আরও তিনজন সদস্য আহত হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের বরাতে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন আফগান নাগরিক রয়েছেন, যাকে হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট–এর সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী বলেন, ইসলামাবাদে মসজিদে হামলার পরপরই সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে সন্ত্রাস দমন বিভাগ (সিটিডি) ও খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের যৌথ অভিযানে নামা হয়। তিনি জানান, নওশেরা ও পেশোয়ারে ধারাবাহিক অভিযানে হামলায় সহায়তাকারী চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নকভীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ ‘দায়েশ আফগানিস্তান’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এসব জঙ্গি গোষ্ঠী পারস্পরিকভাবে সহযোগিতা করছে এবং তাদের অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করার কাজ চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো জরুরি। তার মতে, জনসাধারণের সহযোগিতা বাড়লে সন্ত্রাসী তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইসলামাবাদের খাদিজা আল-কুবরা এলাকায় ওই আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হন। রাজধানীতে দীর্ঘদিন পর এমন বড় হামলায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে জঙ্গি হামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।