ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, ছবি: সংগৃহীত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আজ রোববার থেকে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছে। ভোটের চার দিন আগে শুরু হয়ে ভোটের দিন ও পরবর্তী দুই দিনসহ মোট সাত দিন বাহিনীগুলো দায়িত্ব পালন করবে। এ হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে এই মোতায়েন কার্যক্রম চলবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসসকে বলেন, রোববার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে কাজ শুরু করছে। সেনাবাহিনী আগেই প্রস্তুত ছিল, আজ থেকে তাদের মোতায়েন কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় কার্যকর হচ্ছে।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পরিবেশ অনুকূল। প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জেলায় জেলায় পাঠানো হচ্ছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী সাত দিন দায়িত্ব পালন করবে, আর আনসার বাহিনী থাকবে আট দিন। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান, এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকিতে ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি ও এডজুডিকেশন কমিটিও মাঠে সক্রিয় রয়েছে। ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তার ভাষায়, দুষ্কৃতকারীদের ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না।
তিনি জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এবার কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে—এর মধ্যে দুইজন পুলিশ ও তিনজন আনসার। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যাদের মধ্যে নারী সদস্যও থাকবেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও নির্বাচনী কার্যক্রমে সহযোগিতা করবেন বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তার মতে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।