সংস্কারের অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরল অন্তর্বর্তী সরকার, প্রকাশিত হলো ‘রিফর্ম বুক’

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

সংস্কারের অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরল অন্তর্বর্তী সরকার, প্রকাশিত হলো ‘রিফর্ম বুক’

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন খাতে যেসব সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার সারসংক্ষেপ নিয়ে ‘রিফর্ম বুক’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে সরকার। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু করে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি ও অর্জন এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের করে আনার লক্ষ্যে ধারাবাহিক সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতি, অপশাসন ও আস্থার সংকটে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রেস উইং জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের সুপারিশ ও সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত মিলিয়ে মেয়াদকালের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হয়। এই সময়ে প্রায় ১৩০টি নতুন ও সংশোধিত আইন প্রণয়ন এবং ছয় শতাধিক নির্বাহী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির ফলে হাজারো পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা মিলেছে। চীনের সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যৌথ তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতির কথাও তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় শুল্কহার কমানো এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক করার অগ্রগতির কথাও জানানো হয়।

জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পতিত সরকারের আমলের বহু রাজনীতিক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে বলে জানানো হয়। ব্যাংকিং খাতে তদারকি জোরদার, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফেরাতে তদন্তের মুখে বহু কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালুর তথ্য দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশেষ কমিশনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে সত্য উদ্ঘাটন ও জবাবদিহির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন নামে পুনর্গঠনের কথাও জানানো হয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আদালতগুলোকে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক অধীনে আনা এবং যোগ্যতাভিত্তিক পদ্ধতিতে বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার এবং বন্ধ থাকা গণমাধ্যম পুনরায় চালুর অনুমতির কথাও তুলে ধরা হয়।

প্রেস উইং জানায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি হিসেবে গণভোটের অপেক্ষায় রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব সংস্কার নতুন শাসনব্যবস্থার পথে একটি সূচনা মাত্র। দীর্ঘ সময়ের ক্ষতি অল্প সময়ে পূরণ করা সম্ভব না হলেও দেশ কর্তৃত্ববাদী শাসন থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে এগোচ্ছে।

Link copied!