ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচনকালে ইন্টারনেট খোলা থাকবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অনেক পুরনো শব্দ। বিভিন্নভাবে এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি, নির্বাচনটি যেন সত্যিকার অর্থেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হয়।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ। ‘আপনারা বলেন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এখানে অল্পসংখ্যক সাংবাদিকের কথা বলাটাও অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। সেখানে পুরো দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সহজ নয়,’ যোগ করেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রস্তুতি অনুযায়ী কাজ এগোলে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে যে মাত্রার স্বাধীনতা রয়েছে, অতীতে তা ছিল না। এখন আর ইন্টারনেট বা ফেসবুক বন্ধ করা গ্রহণযোগ্য নয়। সবাই স্বাধীনভাবে লিখবেন, মত প্রকাশ করবেন। আগে সাংবাদিকদেরও নানা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে হতো, এখন সেই পরিবেশ বদলেছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মুখ একেবারে খোলা। সত্য তথ্য প্রকাশ করাই আপনাদের দায়িত্ব। সত্য প্রকাশ না হলে জনগণ সঠিক তথ্য পাবে না। তাই আমরা চাই, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করুন।’
নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ সময় সংঘটিত অনেক সহিংসতাই একই দল বা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
তিনি জানান, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।