ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) শিগগিরই শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে বর্তমান শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি বাজারে বাণিজ্যিক প্রাধান্য সুরক্ষার প্রয়োজন।
আজ (রোববার) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (ইউরোচ্যাম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এই আহ্বান জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় তারা বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার গুরুত্ব, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুষ্ঠু বাণিজ্য সম্পর্ক নিশ্চিত করা এবং দেশীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে আরও সংস্কারের প্রয়োজন নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারা আসন্ন নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মোতায়েন বিষয়েও আলোচনা করেন।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে, যা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে ৭,৩০০টিরও বেশি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের পথ খুলেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি (এফটিএ) সই করে বাংলাদেশের রফতানি বিশেষ করে তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
ইউরোচ্যামের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে এফটিএ আলোচনা শুরু করতে হবে, কারণ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য ইইউতে বিদ্যমান বাণিজ্য অগ্রাধিকার হারাতে পারে। তিনি জানান, এফটিএ বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে রফতানি বৃদ্ধি করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিকশিত হবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি ইইউ’র পক্ষ থেকে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে একটি বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতি জানান এবং উল্লেখ করেন, প্রাথমিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিশ্চিত হলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতামূলক খরচে দক্ষ শ্রমিকের সুবিধা নিতে পারবে। তিনি বলেন, “আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছি এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ব্যবসার উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে চাই। আমরা আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ চাই।”
এছাড়া, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশে উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য তাদের মোতায়েনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রিক চিত্র তিনি ‘খুব ইতিবাচক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।