সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১২, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী | ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশা, ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে এবারের বাজেটের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ (শুক্রবার) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেট প্রণয়নের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাংলাদেশে কমপক্ষে ছয় মাসের একটি কর্মযজ্ঞ থাকে। তবে, আমাদের ক্ষেত্রে সময় ছিল মাত্র দেড় থেকে দুই মাস। এত কম সময়ের মধ্যে একটি বাজেট প্রস্তুত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল। তারপরও সবার সহযোগিতায় আমরা কাজটি সম্পন্ন করেছি। আমরা কতটুকু সফল হয়েছি, সেই সিদ্ধান্ত দেশের জনগণই নেবে।’

বাজেটের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেটের প্রেক্ষাপটটা সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। দীর্ঘ এক ফ্যাসিবাদী শাসনের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং এরপর নির্বাচিত সরকারের এই সময়টাতে জনগণ বাজেটের আসল কার্যকারিতা ফিরে পেয়েছে। বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে দেশবাসী এমন একটি বাজেট মিস করেছে, যা সত্যিকার অর্থে জনগণের চিন্তার প্রতিফলন ঘটায়। বাজেট বলতে মূলত জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনকেই বোঝায়।’

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ছিল অর্থনীতিকে আরও গণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। অতীতে অর্থনৈতিক সুবিধা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবারের বাজেটে দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্যও সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সীমিত সম্পদের মধ্যেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ, কর্মসূচি এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বাজেটে শুধু নীতিগত ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রোডম্যাপও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘গত দেড় দশকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ব এখন নিয়মভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে ক্রমেই সুরক্ষাবাদী (প্রটেকশনিস্ট) ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও দেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনিও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

Link copied!