আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৫:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘মব’ হামলার শিকার সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আনা অভিযোগের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ যে যুক্তি তুলে ধরেছে, তা ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন এ মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন।
শুক্রবার ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে ১৬ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কার্জন আদালতের কাছে এর প্রতিকার চান এবং ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের এক সংগঠনের ওই অনুষ্ঠান থেকে ‘উদ্ধার করে’ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল কার্জনদের। পরে শাহবাগ থানায় তাদের নামেই উল্টো মামলা করা হয়, যেখানে ‘দেশকে অস্থিতিশীল এবং অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনে পুলিশ।
ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হকের আদালতে শুনানির সময় কার্জন বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “অপরাধী গ্রেপ্তার না করে আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল এই শিক্ষক বলেন, “আমরা ভিকটিম। এর প্রতিকার চাই। আমাদের এখনই রিলিজ দিবেন। আমাদের যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চাই। আর এখনই জামিন দিবেন। আমরা কারো কোনো দলীয় লোক নই।” খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
লতিফ সিদ্দিকী ও কার্জন ছাড়া বাকি ১৪ জন হলেন- মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), মো. জাকির হোসেন (৭৪), মো. তৌছিফুল বারী খান (৭২), মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭), মো. আল আমিন (৪০), মো. নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০), মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।
তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলার বিবরণে বলা হয়, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ অগাস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
“সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
“একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।”
ওই ১৬ জনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, “আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’ এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিলেন। তার এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদেরকে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দেয়। পরস্পর সহায়তাকারী হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচণার অপরাধ করেছে। মামলাটি তদন্তাধীন।
“এ অবস্থায় মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়ায় পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে পাওয়ার আবেদন করা হবে।”
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামিদের যখন এজলাসে তোলা হয়, তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট এবং গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় তোলার পরও আসামিদের পরনে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেখা যায়।
অধ্যাপক কার্জন এ সময় পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “ভয়াবহ অবস্থা! বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলি?” তখন পুলিশ সদস্যরা তাদের জ্যাকেট খুলে দেন।
কাঠগড়ায় সবার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। এ সময় তাকে হাসিমুখেই দেখা যায়।
মাঝে এক দফা তিনি পানি পান করেন। পরে আবার মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে।
১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক এজলাসে ওঠেন। এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে আইনজীবীরা ওকালতনামায় আসামিদের স্বাক্ষর নিতে চান।
লতিফ সিদ্দিকী বাদে অধিকাংশ আসামিই ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। কিন্তু আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সাইফ স্বাক্ষর নিতে লতিফ সিদ্দিকীর কাছে গেছে তিনি সই না করে ফিরিয়ে দেন।
প্রথমে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তৌফিক হাসান আসামিদের কারাগারে আটক রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন আসামিদের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে যুক্তি দেন।
তিনি বলেন, “গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’ এ গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা উপস্থিত হন। ‘মঞ্চ ৭১’ এর জন্ম গত ৫ অগাস্ট। বুকের ওপর চেপে বসা ফ্যাসিস্ট গত বছরের ৫ অগাস্ট বিতাড়িত করা হয়। ওইদিনই কেন ‘মঞ্চ ৭১’ এর জন্মদিন হতে হবে? তাদের মূল উদ্দেশ্য হাসিনাকে ফেরানো। তারা নীল নকশা, ষড়যন্ত্র করছিল। তারা (আসামিরা) কিন্তু আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। কোনো না কোনোভাবে ওই দলের কাছ থেকে সুবিধাভোগী। তাদের কারাগারে পাঠানো হোক। পরবর্তীতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।”
তিনি বলেন, “এর আগে ভাটারায় হাসিনাকে ফেরাতে ৩০০/৪০০ জন বৈঠক করে শাহবাগ অবরোধ করে। তারা নির্বাচন বানচালের নীল নকশার অংশ হিসেবে ওই বৈঠক করে। এরপর এ ঘটনায় অবতারণা করেছে।”
এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, “মাননীয় আদালত, আপনি অনুমতি দিলে কিছু কথা বলতে চাই। আমাদের সঙ্গে মানবধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। সংবিধানের আর্টিকেল ৩৩ অনুসারে বলা আছে অ্যারেস্ট করার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে উপস্থিত করতে হবে। নিজেদের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। সাথে সাথে আইনজীবীকে জানাতে হবে।
“সংবিধানের যে সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা তা দেওয়া হয় নাই। আমাদের আইনজীবী ঠিক করতে দেওয়া হয় নাই। আর পিপি যা বললেন সব মিথ্যা।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, “গতকাল ১০টায় ডিআরইউতে যে প্রোগ্রাম ছিল সেটার আহ্বায়ক ছিলেন জহিরুল হক পান্না, তাকে আপনারা চেনেন, জানেন। আর ওই মঞ্চের সদস্য সচিব একজন মুক্তিযুদ্ধো। ড. কামাল হোসেনের সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল। আমি সেখানে আলোচক হিসেবে ছিলাম। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।”
তিনি বলেন, “কিন্তু সেখানে একদল সন্ত্রাসী ঢুকে মব করে আমাদের তুলে দেয়। আমরা ভিকটিম। যারা অপরাধী তাদের গ্রেপ্তার না করে আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি একজন শিক্ষক। রাতে আমাদের যেখানে রাখা হয়েছে একটা ফ্যান ছিল না, সাবান ছিল না। আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। আমরা ভিকটিম। এর প্রতিকার চাই।”
এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন বলেন, “১৭ বছর ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগী। এখন আদালতে এসে আঙুল উঠিয়ে কথা বলে। এরা চোর, বাটপাট।”
এরপর সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে চান। আদালত তাকে এক মিনিটে কথা শেষ করতে বলেন।
পান্না বলেন, “আমরা সন্ত্রাসী, আপনার মনে হয়? যারা হামলা করল তাদের গ্রেপ্তার না করে আমাদের গ্রেপ্তার করল!”
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তখন এর বিরোধিতা করা হয়। আদালত কক্ষ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তখন বিচারক সবার উদ্দেশে বলেন, “আপনারা ঠান্ডা হন। আগে জামিন শুনানি শুনি।”
এরপর কয়েকজন আসামির পক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জামিনের বিষয়ে শুনানি করেন।
তিনি বলেন, “সেখানের কেউ বীর মুক্তিযোদ্ধা, কেউ সাংবাদিক আবার কেউ শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বললে আক্রমণ করতে হবে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে তারা কথা বললেন, তাদের মব সৃষ্টি করে মানহানি করা হল। তারা জুডিশিয়ারি প্রেসারের শিকার। অন্যায়ভাবে আইন প্রয়োগের শিকার। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
এরপর আরও কয়েকজনের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করা হয়। তবে লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজন জামিন আবেদন করেননি।
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, “লতিফ সিদ্দিকীর জামিনের প্রার্থনা করতে যখন তার কাছে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে যাই আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, তখন তিনি বলেন, যে আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তার কাছে কেন জামিন চাইব? আমি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করব না, জামিন চাইব না।
“যতবার স্বাক্ষর করতে যাই, ততবারই তিনি এ কথা বলেন, এ কারণে তিনি জামিনের প্রার্থনা করেননি।”
এরপর রাষ্ট্রপক্ষে কাইয়ুম হোসেন নয়ন ফের যুক্তি তুলে ধরে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
শুনানি শেষে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় অধ্যাপক কার্জন বলেন, “আমি তো মারা যাব। আমাদের মেরে ফেলবে। আমরা সন্ত্রাসের শিকার, আমাদের জেলে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ, আদালত আমাদের কোনো বিচায় দেয়নি। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। দেশ এখন পাকিস্তানপন্থিদের হাতে। এটা চলবে না। ইনশাআল্লাহ এ দেশটাকে আমরা অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে পরিণত করব।”
আদালত চত্বরে সংবিধান উঁচু করে সাংবাদিকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, “এটা মুক্তিযদ্ধের সংবিধান। আমরা রক্ষা করব। মুক্তিযদ্ধের সংবিধান ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, ৫ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এ সংবিধান। এই সংবিধান, দেশ আমরা রক্ষা করব।”
ওই সময়ে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, “যারা সন্ত্রাস করল, তাদের ধরল না। আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই, লিখলেই সন্ত্রাসী হয়ে যায়।”
তবে লতিফ সিদ্দিকী এ সময় কোনো কথা বলেননি। কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি মাথা নাড়িয়ে ‘না’ করে দেন।
শুনানি শেষে কার্জনের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী সাংবাদিকদের বলেন, “গ্রেপ্তারের পর লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে যেভাবে রাখা হয়েছে, সেখানে একটি ফ্যান পর্যন্ত ছিল না। ধুলোবালির মধ্যে তাদের রাখা হয়। তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। সেখানে সংবিধানের ৩৩ আর্টিকেল অনুসারে যে অধিকার রয়েছে সেটি লঙ্ঘন করা হয়েছে।”
কী ঘটেছিল
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শিরোনামে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম।
এ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় করছেন গণফোরামের নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীর প্রতীক) ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল গণফোরামের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেনের। তবে তিনি আসার আগেই সেখানে একদল ব্যক্তি হট্টগোল শুরু করে। তাদের হামলায় আহত হন অনেকে।
ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয়ে আল আমিন রাসেলের নেতৃত্বে কয়েকজন গিয়ে উপস্থিত লোকজনদের ঘেরাও করেন।
তারা আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে অনেকেকে জোর করে তুলে দেয় এবং অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধাদেরও মারধর করে।
২০-৩০ বছর বয়সী ওই হামলাকারীদের জামায়াত ও শিবিরপন্থি বলে সোশাল মিডিয়ায় চিহ্নিত করছেন অনেকে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমি এখানে প্রোগ্রামে এসেছি। দল মতের হিসাবে নয়, এখানে সব মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকা হয়েছে; তাই এসেছি।
“আমরা প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। লতিফ সিদ্দিকী সাহেব এসেছেন। কামাল হোসেন সাহেব আসেননি। ২০/২৫ জন ছেলে এসে হট্টগোল করে। আমাদের ঘিরে ফেলে।”
সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরে কয়েকজন তরুণ লাফাতে লাফাতে স্লোগান দেয়, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’- এরকম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থলে কেশব রঞ্জন সরকার নামের একজন মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। আর রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মারধরের শিকার হন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম।
যে কারণে জামিন চাননি লতিফ সিদ্দিকী
পুরের ওই ঘটনার পর ডিআরইউ থেকে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ও সাংবাদিক মনজুরুল ইসলাম পান্নাসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
পুলিশ তখন বলেছিল, ‘মব’ হামলার মুখে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনতে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে এবং কয়েকজনকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর আসে। তবে পুলিশ তখন কারও নাম জানায়নি। রাত ১০টা অবধি তাদের আটক করার বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।
রাত সাড়ে ১০টার পরে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এর কিছু সময় পর তিনি মামলা হওয়ার তথ্য দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর কথা বলেন।