জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার সকালে। ছবি: কোলাজ/ইউএনবি
বেকারদের বেকারভাতা দিলে দেশে বেকারত্ব বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।
জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা দল সরকারে আসার আগে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ার কথা বলছে। বলছে কৃষক কার্ড দেবে, দেবে বেকারভাতা। ওই সব ধোঁকা আর বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। বেকারদের বেকারভাতা দিলে বেকারত্ব বেড়ে যাবে। আমরা নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারদের সাবলম্বী করে তুলব।’
তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তাআলা যদি আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, আমরা এই যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করব, ৫শ’ বেড হাসপাতাল, ভবদহ সমস্যার সমাধান করা হবে। যশোরবাসীর এসব ন্যায্য অধিকার।’
পরে তিনি যশোরের বিভিন্ন আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে আবারে সেই গোলামি। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। ‘না’ ভোট হলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। ‘না’ ভোট বিজয়ী হলে সরকার গঠন করে কোন লাভ হবে না।
এই রাজনীতিক বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায়, তার সাহায্যে, জনগণের ভালোবাসায় ও জনগণের ভোটে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে সবাইকে নিয়েই আগামী পাঁচ বছর দেশ চালাতে চাই। আমরা বিভক্তির বাংলাদেশ চাই না। আমরা ঐক্যের বাংলাদেশ চাই।
তিনি বলেন, চাঁদার জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ। এই চাঁদার কারণে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না, ভোক্তা ন্যায্যমূল্যে শাকসবজি কিনতে পারে না। চাঁদাবাজরা মাঝখানে ভাগ বসিয়ে দেয়, এর ভার পড়ে জনগণের ঘাড়ে। জুলাই শহিদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী নির্যাতিত একটা মজলুম দল। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটা দল। জামায়াতের ইসলামীর কেউ গিয়ে মুদি দোকানির কাছে, রাস্তার পাশে হকারের কাছে, ফকিরের কাছে চাঁদা চায়নি। যারা চেয়েছেন তাদের আমাদের সঙ্গে নিয়ে আসব। ভালোর পথে নিয়ে আসা হবে। আমরা অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। এত নির্যাতিত হওয়ার পরও নিজের হাতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পেরেছেন, এতেই বোঝা যায় জামায়াত ইসলামীর হাতেই আগামীর পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ নিরাপদ, ইনশাআল্লাহ।
জামায়াত আমির বলেন, ‘একটি বন্ধু সংগঠন নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেছেন, বলছেন এই কার্ড মহিলাদের হাতে দেওয়া হবে। অন্যদিকে মা-বোনেরা যখন অন্য কোনো দলের হয়ে বের হচ্ছেন তখন তাদেরকে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে, মারপিট করা হচ্ছে। অর্থাৎ একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে।
‘এর মাধ্যমে জাতিকে একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে—আগামীতে যদি ওই দল ক্ষমতায় আসে, তাহলে তাদের হাতে বাংলাদেশের একজন মা-বোনও নিরাপদ থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো মা-বোন যদি নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করে, তাহলে আপনারা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বলুন। কিন্তু তাদের গায়ে হাত দেওয়ার আপনি কে? আমরা মায়েদের সঙ্গে কোনো অপমান সহ্য করব না। আর যদি এ ধরনের কোনো আচরণ করা হয় তাহলে যেখানেই আঘাত হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’
নারীদের ঘরে-বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করে শফিকুর রহমান বলেন, মায়েদের ইজ্জতের মূল্য জীবনের চেয়ে বেশি। মায়েদের কোনো অপমান আমরা বরদাশত করব না। কোনো লম্পটের জায়গা বাংলাদেশের জমিনে হবে না, এই ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স। মায়েরা ঘরে থাকবেন নিরাপদে, রাস্তায় বের হয়ে নিরাপদে চলাফেরা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার ও দায়িত্ব। তারা নির্ভয়ে, নিঃসংকোচে, প্রশান্তি নিয়ে, স্বস্তির সঙ্গে দেশ গড়ার কাজে পুরুষের পাশাপাশি অবদান রাখবেন।

আজ (মঙ্গলবার) সকাল সোয়া ৯টার দিকে তিনি সমাবেশ মঞ্চে ওঠেন। পরে পৌনে ১০টার দিকে বক্তব্য শুরু করে প্রায় ৩০ মিনিট বক্তৃতা দেন এই রাজনীতিক। জামায়াতের সমাবেশ উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই কর্মী-সমর্থকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে যশোর ঈদগাহ ময়দান। ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে দলটির কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে শহরে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকেই ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
জনসভায় অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের হাতে ছিল দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা সম্বলিত প্লাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন। পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। এছাড়া স্থানীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেন।