এশিয়ার সেরা সিনেমার তালিকায় বাংলাদেশের তিন সিনেমা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

এশিয়ার সেরা সিনেমার তালিকায় বাংলাদেশের তিন সিনেমা

ছবি: কোলাজ/ দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ

বিশ্বের প্রভাবশালী চলচ্চিত্রবিষয়ক ওয়েবসাইট এশিয়ান মুভি পালস প্রকাশিত ‘২০২৫ সালে এশিয়ার সেরা ২০ সিনেমা’ তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা।

তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে মেহেদী হাসান পরিচালিত বালুর নগরীতে, ১৭ নম্বরে সৌমিত্র দস্তিদারের জুলাই ৩৬: রাষ্ট্র বনাম নাগরিক এবং ১৯ নম্বরে নুহাশ হুমায়ূনের অ্যানথোলজি চলচ্চিত্র ২ষ।

২০০৯ সাল থেকে এশিয়ান মুভি পালস আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে এশীয় সিনেমা তুলে ধরার কাজ করে আসছে। চলচ্চিত্র সমালোচনা, আন্তর্জাতিক উৎসব কাভারেজ এবং নির্মাতাদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এশিয়ার বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করানোই তাদের মূল লক্ষ্য। ২০১৯ সাল থেকে তারা নিয়মিতভাবে এশিয়ার সেরা সিনেমার তালিকা প্রকাশ করছে। শৈল্পিক গল্পবিন্যাস, অভিনব উপস্থাপন, ভিন্নধর্মী জনরা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা এবং উৎসবকেন্দ্রিক আলোচনার ভিত্তিতেই এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়।

প্রতিবেদনে সমকালীন এশীয় সিনেমা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের চলচ্চিত্র দিন দিন আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। একসময় যারা সিনেমার দৌড়ে পিছিয়ে ছিল, তারাও এখন শৈল্পিক ও সাহসী নির্মাণে সামনে আসছে। ইতিহাস, স্মৃতি এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার প্রশ্নগুলো নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব সিনেমা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিবেদনে সৌদি আরব ও তুরস্কের সিনেমার অগ্রগতি এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও ইরানের প্রভাবশালী অবস্থানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বছরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইরানের ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট। জাফর পানাহি পরিচালিত ছবিটি গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে সর্বোচ্চ সম্মান স্বর্ণপাম জয় করে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইরাকের ইরকালা: ড্রিমস অব গিলগামেশ, তৃতীয় স্থানে ইরানের কাটিং থ্রো রকস এবং চতুর্থ স্থানে সৌদি আরবের হিজরা।

বাংলাদেশের বালুর নগরীতে সম্পর্কে এশিয়ান মুভি পালস লিখেছে, এটি ছোট পরিসরের হলেও এক বিরল আর্টহাউস রত্ন—যার গতি শান্ত, ছন্দ মসৃণ এবং আবহ গভীর। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এমা, যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ভিক্টোরিয়া চাকমা। বিড়ালের লিটার বক্সের জন্য স্কুটারে করে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বালু সংগ্রহ করতে গিয়ে একদিন তিনি খুঁজে পান একটি কাটা আঙুল, যা তার জীবনে অপ্রত্যাশিত মোড় নিয়ে আসে। সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় চেক প্রজাতন্ত্রের কার্লোভি ভেরি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে, যেখানে এটি গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার অর্জন করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে ছবিটি সর্বশেষ গ্লাসগো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পেয়েছে।

তালিকায় থাকা জুলাই ৩৬: রাষ্ট্র বনাম নাগরিক সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধের দলিল, যা ইতিহাস পুনরুদ্ধার করে সাহসী কণ্ঠগুলোকে সামনে নিয়ে আসে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ছবিটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ এবং তরুণ প্রজন্মের সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

নুহাশ হুমায়ূনের ২ষ নিয়ে এশিয়ান মুভি পালসের মন্তব্য, কয়েকটি অসাধারণ গল্পের মাধ্যমে ছবিটি দর্শককে মুগ্ধ করে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এটি একটি প্রশংসনীয় অ্যানথোলজি।

প্রতিবেদের শেষাংশে এশিয়ান মুভি পালস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, এশীয় সিনেমার ভিড়ে বাংলাদেশের উত্থান আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নানা ঘরানা ও ফরম্যাটে আত্মবিশ্বাসী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশি নির্মাতারা ধীরে ধীরে নিজেদের স্বতন্ত্র সিনেম্যাটিক পরিচয় গড়ে তুলছেন।

Link copied!