জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে প্রায় ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ভৈরবে আটকে থাকা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে গেলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
এর আগে সোমবার রাত ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশন স্টেশনে ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে রাত সাড়ে ৩টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনার পেছনে লাইনম্যানের গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে তদন্তের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সমকালকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) কামরুজ্জামান।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, সোমবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) ট্রেন। রাত ২টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনে পৌঁছে ৪০ মিনিট বিরতির পর রাত ৩টা ২০ মিনিটে আবার যাত্রা শুরু করে। তবে স্টেশন ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিগন্যাল পয়েন্ট এলাকায় ইঞ্জিন থেকে চার নম্বর বগির সামনের দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে পূর্বাঞ্চল জোনের সব ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী এগারো সিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেন ভৈরব স্টেশনে আটকে থাকে। এছাড়া কুলিয়ারচর স্টেশনে বিজয় এক্সপ্রেস, নরসিংদীর দৌলতকান্দিতে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, খানা বাড়ি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে তুর্ণা নিশিতা ও তিতাস কমিউটার ট্রেন আটকে পড়ে।
রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, ‘অপারেটের সিস্টেম থেকে অনলাইনে ক্রসিং লাইনে কোনো সিগন্যাল যায়নি। এটি পয়েন্ট ম্যানের কাজ ছিল। তবে কি কারণে ত্রুটি হয়েছে এটি তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।’
বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার কামরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। সকাল ৮টায় আখাউড়া থেকে আসা রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ করা হয়েছে। দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট রুটে সিঙ্গেল লাইন চালু করে আপাতত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জেনেছি রেলওয়ে পয়েন্টম্যানের গাফিলতি রয়েছে। ভুলভাবে পয়েন্ট সেট করে সিগন্যাল দেওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে জেনেছি বলেই আমরা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এই ঘটনার সঙ্গে রেলওয়ের অন্য কারও গাফিলতি আছে কিনা এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।’