মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভে উত্তাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ১৭, ২০২২, ০৮:০৪ এএম

মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভে উত্তাল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

রান্নার সরঞ্জাম সরানোর নির্দেশনা বাতিলসহ কয়েকটি দাবিতে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভ করেছেন ছাত্রীরা। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের ছাত্রীরা তালা ভেঙে বেরিয়ে পড়েন। তারা হলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলের ছাত্রীরাও।

তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন হলের ছাত্ররাও। রাত সোয়া একটার দিকে দেখা যায়, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা হাদী চত্বরে অবস্থান করছেন। জানা গেছে, তারা ১০ দফা দাবি জানিয়েছেন।

সেগুলো হলো— হলে রাইস কুকার ও রান্নার সরঞ্জামাদি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যৌন হয়রানির প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য প্রাধ্যক্ষকে ক্ষমা চাইতে হবে, হলে প্রয়োজনে অভিভাবক ও নারী আত্মীয়দের থাকার অনুমতি দিতে হবে, হলে পানি ও খাবারের সমস্যার সমাধান করতে হবে, হল প্রাধ্যক্ষ তাঁর নিজ ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) ছাত্রীদের ডেকে ব্যক্তিগত ও একাডেমিক বিষয়ে হয়রানি করতে পারবেন না, হলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, সিট বাতিলের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং হলের ছাত্রীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।



এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন অপরাজিতা ও বঙ্গমাতা হলের অন্তত পাঁচ শতাধিক ছাত্রী। মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ-স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

প্রশাসনের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে রাত আড়াইটার দিকে বিক্ষোভ বন্ধ করে হলে ফিরেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজিতা হলের এক ছাত্রী তরকারি কাটার বটি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি বেঁচে যান। ওই ঘটনার পর হলে ছাত্রীদের রান্নার সরঞ্জাম জব্দ করার নিদের্শ দেয় হল কর্তৃপক্ষ। ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ রাইস কুকার, হিটারও সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, যাঁর কক্ষে এসব সরঞ্জাম পাওয়া যাবে তাঁর সিট বাতিল করা হবে।

এ নিয়ে ছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর জের ধরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অপরাজিতা হলের একদল ছাত্রী ফটকের তালা ভেঙে বাইরে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এদিকে, বিক্ষোভ শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে এসেছেন অপরাজিতা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রহিমা নুসরাত রিম্মি। তিনি ছাত্রীদের হলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেন।

Link copied!