কক্সবাজারে মদের বারে সংঘর্ষ, দুই যুবক নিহত

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০১:২০ পিএম

কক্সবাজারে মদের বারে সংঘর্ষ, দুই যুবক নিহত

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকায় একটি মদের বারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ঝাউতলার ‘রেনেসাঁ হোটেল’-এর দোতলায় অবস্থিত বারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কক্সবাজার শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার নাজিবুল হক রাশেদ (২৮) এবং বিজিবি ক্যাম্প এলাকার সোলাইমান ওরফে সালমান (২৬)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে রেনেসাঁ হোটেলের দোতলার বারে কয়েকজন যুবক মদ পান করছিলেন। একপর্যায়ে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে রাশেদ ও সালমানের পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষ বাইরে থেকে আরও লোকজন ডেকে আনে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙা কাচের বোতল নিয়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষের সময় ভাঙা গ্লাস ও ছুরির আঘাতে রাশেদের গলা ও পেটে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, রাশেদকে হত্যার অভিযোগে সালমানকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা। পুলিশ পাহারায় তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সালমানেরও মৃত্যু হয়।

তবে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, রাশেদের মৃত্যুর পর তার পক্ষের লোকজন হাসপাতাল বা এর আশপাশ থেকে সালমানকে তুলে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করে। পরে তার মৃত্যু হয়। এ দাবির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অনুমোদন ছাড়াই বারটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। তদন্তের স্বার্থে এবং আলামত সংরক্ষণের জন্য বারটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে রেনেসাঁ হোটেলের ব্যবস্থাপক ফয়েজুল হক দাবি করেছেন, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত তাদের বারের লাইসেন্স নবায়ন করা রয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি, তবে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

Link copied!