ছবি: বিবিসি
নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৪৬৮ জন। নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল-চীন সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারী দল ও সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে।
নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ১ হাজার ৪৬৮ জনের মধ্যে অনেকেই বিদেশি পর্যটক। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। নেপালের নতুন পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দেড় শতাধিক নাগরিকও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এরই মধ্যে বন্যাকবলিত নেপালে নতুন করে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পার্শ্ববর্তী তিব্বতে ৫ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্পের পর তিব্বত অঞ্চলে চীন ‘লেভেল-৪’ দুর্যোগ সতর্কতা জারি করেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বুধবারের ভূমিধসের পর দুটি নদীর মিলনস্থলে একটি প্রাকৃতিক জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপে এই জলাধার ভেঙে গেলে নিচের দিকে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
নেপাল-চীন সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় চলতি সপ্তাহে হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। এর পর গত বুধবার ভয়াবহ পানি ও কাদার স্রোত কয়েকতলা ভবনের সমান উচ্চতায় নেমে আসে ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী ট্রেকিং রুট ও জনপদগুলোতে।
এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি এলাকা। সেখানকার বহু জনবসতি পানিতে তলিয়ে যায়। প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ভেসে যায়। পানির তোড়ে বহু ভবন ও সেতুও ধ্বংস হয়েছে।
দুর্যোগের পর থেকে দুর্গম এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর তীর, নিম্নাঞ্চল ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গত ও আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের কাজ চলছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি