আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
ছবি: বিবিসি
নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৬ জন।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, পর্যটক ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন। নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা ৫২৯ জনেরও বেশি।
এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১৬৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। জেলা প্রশাসন কার্যালয় এবং জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ৮৫ জন জরুরি পরিষেবা কর্মীর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বন্যায় সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ ৫৭৯ পর্যটকের মধ্যে ৪০০ জনের বেশি বিদেশি। তাদের মধ্যে ভারতের ১৪২, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য দেশের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
চীনের গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরোং প্রদেশে ২৬০ জন বিদেশিসহ সাড়ে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে বুধবার হঠাৎ চীনের দিক থেকে পানির তীব্র স্রোত নেমে আসে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী ট্রেকিং রুট ও জনপদগুলোতে। কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে একের পর এক গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। বুধবারের পরিস্থিতি ভয়াবহতার দিক থেকে যেনো সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়।
নেপালের কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই বন্যা ও ভূমিধসকে। ড্রোন ও স্যাটেলাইটের ছবিতেও ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি এলাকা।
উদ্ধার অভিযানে নেপালের প্রায় ২ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বন্যার স্রোতে সড়ক, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপালকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বিভিন্ন দেশ। যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। চীন গিরং এলাকায় প্রায় ৬০০ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া বিশেষ উদ্ধারদল পাঠিয়েছে।