এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক কারাগারে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক কারাগারে

রাজধানীর বারিধারায় ফ্ল্যাট বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দেননি আদালত।

 আজ (বুধবার) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে বিদিশার অনুপস্থিতিতে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। প্রতারণার দায়ে তাঁকে দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ের সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা-পুলিশ।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। শুনানির সময় বিদিশাকে এজলাসে না তুলে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

বিদিশার আইনজীবী আতিকুর রহমান শুনানিতে উচ্চ আদালতে আপিলের শর্তে বিশেষ বিবেচনায় জামিনের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, মামলাটিতে আগে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল, যা পরবর্তী সময়ে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁর মক্কেলের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ করে রায় দেওয়া হয়েছে বলেও যুক্তি দেন তিনি।

তবে জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান এবং রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, প্রায় আড়াই দশক পুরোনো এই মামলায় বিদিশা আদালতের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। সমন ও মামলার কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত থাকার পরও তিনি দিনের পর দিন আদালতে অনুপস্থিত থেকেছেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক বিদিশার জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলা করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।

এজাহারে বলা হয়, ফ্ল্যাট কেনার সূত্রে পরিচয়ের পর ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাঁকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে একই বছরের ১০ জুলাই বনানীর রজনীগন্ধা কার্যালয়ে বাদীকে ডেকে তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার গ্রহণ করেন বিদিশা।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধের পর তাঁদের মধ্যে একটি বায়নানামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন সাপেক্ষে বাকি অর্থ পরিশোধ করে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর না করে বিদিশা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে বাদী অর্থ ফেরত চাইলে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদিশা তাঁকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেন। কিন্তু ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি বাউন্স করে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর বিদিশা ফ্ল্যাট বা অর্থ কোনোটিই ফেরত দেননি। বরং সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।

Link copied!