আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ (বুধবার) ভোরে সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ভুটানের রাজার বিশেষ বিমান ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে। এ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি।
বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে দুজনের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তারা সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতিও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
আলোচনায় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও ভুটানের গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভুটান বাংলাদেশের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ছিল ভুটান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভকামনার কথাও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাতে ভুটানের রাজা তার ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং প্রকল্পটিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।