অস্ট্রেলিয়ার মিউজিক চার্টে এআই-নির্মিত গান নিষিদ্ধ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার মিউজিক চার্টে এআই-নির্মিত গান নিষিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড সংগীতশিল্প পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি গানকে দেশটির সংগীত তালিকায় স্থান দেওয়া বন্ধ করতে যাচ্ছে। দ্রুত বিকশিত এআই প্রযুক্তি শিল্পীদের জীবিকার ওপর হুমকি তৈরি করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ (সোমবার) বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন অস্ট্রেলিয়ার একজন সংগীত প্রযোজক এআই-তৈরি কণ্ঠ ও ড্রাম ব্যবহার করে ম্যাডোনার জনপ্রিয় গান ‘লাইক আ প্রেয়ার’-এর একটি সংস্করণ তৈরি করেছেন। গানটি অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ২০ গানের তালিকায় টানা ১৬ সপ্তাহ ধরে রয়েছে। মে মাসে এটি অস্ট্রেলিয়ান রেকর্ড শিল্প সমিতির শীর্ষ ২০ অস্ট্রেলীয় একক গানের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠেছিল। মঙ্গলবারও গানটি চতুর্থ অবস্থানে ছিল।

আগামী সোমবার থেকে পুরোপুরি এআই দিয়ে তৈরি গান অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড শিল্প সমিতির সংগীত তালিকায় নিষিদ্ধ হবে। তবে এআইয়ের সহায়তায় তৈরি কিছু গান তালিকায় স্থান পাওয়ার যোগ্য থাকবে বলে সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

সংগঠনটির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গান তালিকায় স্থান পাওয়ার যোগ্য হতে হলে গানটি মানুষকে লিখতে হবে এবং প্রধান কণ্ঠ ও মূল বাদ্যযন্ত্রগুলোও মানুষকেই পরিবেশন করতে হবে। এ ছাড়াও আরও কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

এআই দিয়ে তৈরি গান অস্ট্রেলিয়ার সংগীতশিল্পের মর্যাদাপূর্ণ এআরআইএ পুরস্কার-এর জন্যও বিবেচিত হবে না।

এআরআইএর প্রধান নির্বাহী অ্যানাবেল হার্ড বলেন, এই পরিবর্তনগুলো দেখায় যে আমরা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে চাই এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল এই সময়ে শিল্পীর সৃষ্টিশীলতার মানবিক দিককে গুরুত্ব দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, এআরআইএর সংগীত তালিকা সবসময় অস্ট্রেলিয়ার মানুষ কী ধরনের সংগীত শুনছে, তার একটি স্বচ্ছ প্রতিফলন হিসেবে থাকবে। কিন্তু অনুমতি ছাড়া তৈরি এআই সংগীতকে পুরস্কৃত করে এমন একটি তালিকা সেই সংগীতশিল্পের মূল ভিত্তিকেই দুর্বল করবে, যার প্রতিনিধিত্ব করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

যোগ্য গান তৈরির ক্ষেত্রে বৈধ এআই সেবাও ব্যবহার করতে হবে। অনলাইন সংগীত পরিবেশনের বিভিন্ন মাধ্যমে এমন কিছু গানও প্রকাশ পাচ্ছিল, যেগুলো শিল্পীদের অনুমতি ছাড়াই তাদের সংগীত ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত এআই সরঞ্জামের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন নিয়ম গত জুলাইয়ে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক রেকর্ড শিল্প ফেডারেশন প্রকাশিত নতুন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী রেকর্ড সংগীতশিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।

আন্তর্জাতিক নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো গান সরকারি সংগীত তালিকায় স্থান পাওয়ার যোগ্য হতে হলে সেটি “মূলত মানুষের তৈরি” হতে হবে।

সিডনি কনজারভেটোরিয়াম অব মিউজিকের সুরকার ও প্রভাষক অ্যালেক্সিস ওয়েভার অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে বলেন, সংগীতে এআই ব্যবহারের বিতর্ক অত্যন্ত জটিল এবং অনেক সংগীতশিল্পীর জন্য অত্যন্ত আবেগঘন। তাই এ বিষয়ে সবার মতামত এক হবে না।

ওয়েভার এআরআইএর এই উদ্যোগকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চমৎকার একটি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে এআরআইএ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা মানুষের সৃষ্টিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে এবং তার মূল্যায়ন করতে চায়।

ওয়েভার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এআই সরঞ্জাম এড়িয়ে চলা বেশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে এআই এমনভাবেও ব্যবহার করা সম্ভব, যেখানে মূল সৃষ্টিশীল সিদ্ধান্তগুলো আপনি নিজেই নিচ্ছেন এবং নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই থাকছে।

তথ্যসূত্র: এপি

Link copied!