বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন আজ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন আজ

আইয়ুব বাচ্চু | ছবি: সংগৃহীত

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে দেশের সংগীতাঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখেছেন তিনি। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন এই জনপ্রিয় শিল্পী। মাত্র ৫৬ বছরের জীবনে বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে সমৃদ্ধ করে যাওয়া আইয়ুব বাচ্চু বেঁচে থাকলে আজ ৬৪ বছরে পা দিতেন।

১৯৭৮ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের মাধ্যমে ব্যান্ড সংগীতে যাত্রা শুরু করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৮৩ সালে মাত্র ৬০০ টাকা নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি। প্রতিভা, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে ধীরে ধীরে নিজেকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর প্রায় এক দশক ‘সোলস’ ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০ সালে নিজের ব্যান্ড ‘এলআরবি’র যাত্রা শুরু করেন আইয়ুব বাচ্চু। শুরুতে ব্যান্ডটির নাম ছিল ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। পরে এটি ‘লাভ রান্স ব্লাইন্ড’ বা এলআরবি নামে পরিচিতি পায়।

রক সংগীতের বরপুত্র হিসেবে পরিচিত হলেও আইয়ুব বাচ্চুর সংগীতের পরিধি ছিল বহুমাত্রিক। আধুনিক গান, লোকসংগীত থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক—সব ক্ষেত্রেই নিজের অসাধারণ কণ্ঠ, সুর ও গিটারের জাদু দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি।

মঞ্চে হাসিমুখ ও উচ্ছ্বাসের আড়ালে আইয়ুব বাচ্চুর ভেতরে ছিল গভীর অভিমান। কাছের মানুষদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, সংবেদনশীল ও হৃদয়বান মানুষ। নিজের কষ্টের কথা সরাসরি প্রকাশ না করলেও তা ফুটে উঠত তার গান ও সুরে।

মায়ের মৃত্যু ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় ধাক্কা। বিভিন্ন আড্ডা ও সাক্ষাৎকারে মায়ের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন তিনি। মায়ের চলে যাওয়া তার মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। একইভাবে ব্যান্ডের সহশিল্পীদের দলছুট হওয়াও তাকে কষ্ট দিত। ব্যান্ডের সদস্যদের তিনি শুধু সহশিল্পী হিসেবে দেখতেন না, বরং নিজের পরিবারের অংশ মনে করতেন।

আইয়ুব বাচ্চুর সবচেয়ে বড় ভালোবাসা ছিল গিটার। তিনি গিটারকে নিজের প্রথম ও শেষ ভালোবাসা হিসেবে অভিহিত করতেন। জীবনের বড় একটি সময় গিটার সংগ্রহ ও বাজানোর পেছনে ব্যয় করেছেন এই শিল্পী।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য কালজয়ী ও জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘সেই তুমি’, ‘হাসতে দেখো’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘রুপালি গিটার’, ‘মেয়ে’, ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘সুখের এ পৃথিবী’, ‘ফেরারী মন’, ‘উড়াল দেবো আকাশে’, ‘বাংলাদেশ’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘সেই তারা ভরা রাতে’, ‘কবিতা’, ‘আমি তো প্রেমে পড়িনি’, ‘তিন পুরুষ’, ‘যেওনা চলে বন্ধু’ ও ‘বেলা শেষে ফিরে এসে’সহ অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।

২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট ঘরোয়া আয়োজনে কাছের মানুষদের নিয়ে নিজের শেষ জন্মদিন পালন করেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। এর মাত্র দুই মাস পর, ১৮ অক্টোবর, হঠাৎ করেই না ফেরার দেশে চলে যান বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এই কিংবদন্তি।

তার চলে যাওয়ার প্রায় আট বছর হতে চললেও আইয়ুব বাচ্চুর সৃষ্টি, গান ও গিটারের সুর আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বেঁচে আছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তার গান ও সৃষ্টিই তাকে বাংলা সংগীতের ইতিহাসে অমর করে রাখবে।

Link copied!