আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ, তবে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হলে এবং সময় উপযুক্ত মনে হলে ভারত সফর করবেন তিনি। এ সফর নিয়ে কোনো তাড়াহুড়া নেই।
শনিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান হুমায়ুন কবির। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারত সফর ও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ভারত সফরের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোতে সমঝোতা ও অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে। আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহেও সফর হতে পারে, যদি আলোচনায় দ্রুত ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। তাই দেশটির সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। তবে একই নীতি অন্য সব দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়েছে এবং আরও কিছু মামলা চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ফলে তাকে ফেরত চাওয়ার বিষয়টি নতুন কোনো শর্ত বা নতুন ধরনের উদ্যোগ নয়, এটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ অন্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ।
ভারত সফরের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর হঠাৎ করে আয়োজন করা যায় না। দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে আলোচনার বিষয়গুলো ঠিক করা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া এবং একটি ভিত্তি তৈরি করা জরুরি। সরকার বর্তমানে সেই কাজই করছে।
ভারতের দিক থেকেও ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিষয়টি ভারতও উপলব্ধি করেছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, সেটি ভারতও লক্ষ্য করেছে।
এ বিষয়টিকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এখন আলোচনার মাধ্যমে আরও কতটা অগ্রগতি হয়, সেটিই দেখার বিষয়। জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করে আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়েই ভারত সফর করা হবে।