আগস্ট ২১, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
ছবি: রয়টার্স
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষের দিকে আবারও বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে ঠান্ডা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পিয়ংইয়ং।
আজ (শুক্রবার) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে আলোচনার পথ তৈরি করতে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। চলতি বছরের শেষ দিকে চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের সময় দুই নেতার বৈঠক আয়োজন করতে চান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। তবে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসেনি বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং স্পষ্ট করেছেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত উষ্ণ সম্পর্ককে জাতীয় নিরাপত্তা বা সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের গবেষক জেনি টাউনের মতে, মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এ ধরনের আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া কিংবা দেশটিকে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে দেখার নীতি পরিবর্তন না করলে আলোচনা এগোবে না।
জেনি টাউন আরও বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ায় অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর পিয়ংইয়ংয়ের নির্ভরশীলতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূলে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের গবেষক হং মিনের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই প্রতিক্রিয়া আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে নমনীয় করার একটি কৌশল।
সূত্র: রয়টার্স