আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার রাতে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২-এ ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। মুগ্ধ নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলারির দোকানে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, চার হত্যার ঘটনায় দুই আসামি আদালতে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে জবানবন্দিতে তারা কী বলেছেন, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আসামিরা অপরাধের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে ছাদে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন কি না, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তাদের রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এর আগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ দাবি করেন, গণপতি চক্রবর্তী তার বাড়ির ছাদে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলেছিলেন। এ কারণে প্রথমে তাকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করেন তারা।
নিহতরা হলেন সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৩)।
এ ঘটনায় রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আসামির সংখ্যাও নির্দিষ্ট করা হয়নি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রীতিলতা তার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে শনিবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো একসময় হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার রাতে পূজা তার বড় বোনকে ফোন করে সাড়া না পেয়ে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে গণপতিদের বাড়িতে যান। বাড়িটি অন্ধকার ও নীরব ছিল। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির ওপর দিয়ে ছাদে উঠে জানালার লক ভেঙে ভেতরে তাকালে তিনি ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো দেখতে পান। একই সঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধও বের হচ্ছিল।
পরে পুলিশ গিয়ে বাড়ি থেকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে। এজাহারে বলা হয়েছে, আলমারি, শোকেস, আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এতে হত্যার ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে শনাক্ত করা হয়। পরে রোববার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।