আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গত পাঁচ মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত সরকারি তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
পাকিস্তানের নারকোটিক্স কন্ট্রোল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মার্চ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এসব পাকিস্তানিকে ভিক্ষাবৃত্তি, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ফেরত পাঠানো হয়।
এই সময়ে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানি দেশে ফিরেছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮০৩ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া ওমান থেকে ১ হাজার ৬০৬, বাহরাইন থেকে ৫২১, কাতার থেকে ৪২৯ এবং কুয়েত থেকে ৯৭ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে প্রবেশ, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, ভিক্ষাবৃত্তি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, নিরাপত্তাঝুঁকি এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের মতো কারণে এসব পাকিস্তানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন বিভিন্ন মামলায় পলাতক ছিলেন। কারাদণ্ড শেষে দেশে ফিরেছেন ১ হাজার ২৯৪ জন। এ ছাড়া ৯৬৮ জনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্ট হারানোর তথ্য রয়েছে ১ হাজার ১৫৫ জনের। ভিসা নীতি লঙ্ঘন করেছেন ৬৮৯ জন এবং ৩৪২ জনকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এর বাইরে আরও প্রায় ৬ হাজার পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠানো হলেও তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের সময় ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগেও কয়েকজন পাকিস্তানিকে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অভিবাসন বা অপরাধের পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, এই পরিসংখ্যান মধ্যপ্রাচ্য থেকে ওই সময়ে দেশে ফেরা সব পাকিস্তানির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নয়।
তিনি জানান, কেবল যেসব পাকিস্তানিকে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করেছে এবং দেশে ফেরানোর জন্য পাকিস্তানি দূতাবাস বা মিশন জরুরি ভ্রমণ নথি দিয়েছে, তাদের তথ্যই এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে। বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা ব্যক্তিরা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত নন।