জামায়াত নেতা গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের টাকা ও চাকরির প্রস্তাবের অভিযোগ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম

জামায়াত নেতা গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের টাকা ও চাকরির প্রস্তাবের অভিযোগ

ছবি/ কোলাজ

অনৈতিক সম্পর্কের কথা জানার পর গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ওবায়দুর রহমান। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

ওবায়দুরের দাবি, গত ১৯ জুন তার ভাগনির কাছ থেকে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার কথিত অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন এমপি হোস্টেলে গিয়ে এ বিষয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তখন এমপি বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি ওবায়দুরের। এ সময় তাকে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

ওবায়দুর বলেন, তিনি টাকা নেননি। তবে ভাগনির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর অভিযোগ করেন, গাজী নজরুল ইসলাম তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তার দাবি, এমপির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়। পরে তাকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলাও দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, সত্য উদ্‌ঘাটন ও ন্যায়বিচারের জন্যই তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসেছেন। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি করেন।

ওবায়দুর আরও দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে গাজী নজরুল ও তার ভাগনির ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তিনি নিজে দেখেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জুন পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনের একটি কফিশপ এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তাদের কথিত আপত্তিকর অবস্থানের প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে।

গত ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্ট হাউসে এ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান ওবায়দুর। সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি চলে যান। ওই রাতেই ভাগনিকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।

ওবায়দুরের অভিযোগ, পরদিন ঢাকায় ফিরে খিলক্ষেত হয়ে বাসায় যাওয়ার পর তার ওপর হামলা হয়। রাত ১১টার দিকে বাসায় পৌঁছালে মাসুম ও আমিনুর নামে দুই ব্যক্তি তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে মাথায় লাথি মেরে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ তার। পরে তার মা ও ছোট বোন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যান। আহত অবস্থায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

এ ঘটনায় ২১ জুলাই পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানান ওবায়দুর। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়। কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

জামিনে থাকা আসামিসহ আরও কয়েকজন তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন ওবায়দুর। তার বিরুদ্ধে গত ২ আগস্ট নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।

ওবায়দুর বলেন, তিনি অপরাধী হলে আইনের আওতায় নেওয়া হোক। আর তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়ে থাকলে যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান তিনি। তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি, মামলার কাগজপত্র, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তসহ গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা অভিযোগসংক্রান্ত আরও কিছু নথি তার কাছে রয়েছে।

Link copied!