সিলেটে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ‘তৌহিদী জনতা’র

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

সিলেটে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ‘তৌহিদী জনতা’র

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের বিয়ানীবাজারে আগামী ২৮ আগস্ট সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনকে ঘিরে একদিকে চলছে প্রস্তুতি, অন্যদিকে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে একটি পক্ষ নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও লাউতা ও বাহাদুর গ্রামের কয়েকজন যুবক সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রচার-প্রচারণাও শুরু হয়েছে। আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হলেও বিরোধের কারণে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে একটি সভা হয়। সেখানে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানানো হয়। ওই পক্ষের বক্তব্য, গত বছর নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এবার একই ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় তারা আয়োজনটি বন্ধের দাবি জানাচ্ছে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, নৌকাবাইচ এই এলাকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রতিবছর দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নদীর পাড়ে এসে এ আয়োজন উপভোগ করেন। এবার বিরোধের কারণে আয়োজনটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও কৌতূহল বেড়েছে।

পরিস্থিতি যাতে উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গউস উদ্দিন। তিনি বলেন, নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৌকাবাইচের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। তবে এ ছাড়া তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজ নিয়েছেন। প্রতিবছর সেখানে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। তবে এবার একটি পক্ষ গত বছরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করে আয়োজনটি বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

ইউএনও বলেন, নৌকাবাইচ একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। আয়োজকেরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে আয়োজন করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম বলেন, নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। পরিস্থিতি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে এবং ইউএনও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।

Link copied!