পরী মনিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ১৮, ২০২৪, ০৩:০৯ পিএম

পরী মনিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি

পরীমনি।

চিত্রনায়িকা পরী মনির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পরী মনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন সম্প্রতি ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরী মনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে এই মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন। এজাহারে বলা হয়, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। সুযোগ বুঝে তারা বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন ও পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরী মনি তার পরিচিত পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলার ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম (প্রক্ষালন কক্ষ) ব্যবহার করেন।

পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। বাদী ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত সোয়া একটার দিকে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরী মনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদী নাসির উদ্দিনকে ডাক দেন এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরী মনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্টের চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দিতে বাদীকে চাপ দেন। বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরী মনি বাদীকে গালমন্দ করেন।

আরও বলা হয়, বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরী মনি বাদীর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি নিক্ষেপ করেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথা ও বুকে আঘাত পান। একই সময় পরী মনি ও তার সহযোগীরা নাসির উদ্দিনকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং ভাঙচুর করেছেন।

বাদী মামলায় বলেন, পরী মনি ও তার সহযোগীরা তাকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন ও বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরী মনি সাভার থানায় বাদী নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।

২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে এবং চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে পরী মনি সাভার থানায় মামলা করেন।

Link copied!