ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ দেশের দর্শকদের জন্য সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ফিফার আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির মাধ্যমে বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার করা হবে।
তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে ফিফার সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশের দর্শকরা টেলিভিশনে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনগণের অর্থের অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই দর্শকদের খেলা দেখানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং অগ্রগতি সন্তোষজনক।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল সম্প্রচারস্বত্ব জটিলতার কারণে। শুরুতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সম্প্রচারের স্বত্ব পায়। তবে তাদের চাওয়া অর্থের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিটিভির সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। পরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের স্বত্ব ছেড়ে দেয় বলে জানা গেছে।
এরপর সরকার সরাসরি ফিফার সঙ্গে আলোচনায় বসে। এই প্রক্রিয়ায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আশা, এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই আলোচনার ফলাফল জানা যেতে পারে।
এদিকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ থাকছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিজিটাল সম্প্রচারস্বত্ব ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে টেলিভিশনের পাশাপাশি অনলাইনেও ম্যাচগুলো দেখা যাবে।
বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত ও চীনের মতো দেশেও সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে ফিফা পৃথক চুক্তির মাধ্যমে সে সমস্যার সমাধান করে।
এর আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বিটিভি কোনো অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই সম্প্রচার করেছিল। তবে নীতিমালার পরিবর্তনের কারণে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কিনতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করতে হয়। এবার ফিফার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে সরকার।