ছবি: সংগৃহীত
লামিন ইয়ামাল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন এই তরুণ ফুটবলার। তবে মাঠের বাইরেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে আরেকটি নাম—কেইন। মাত্র তিন বছর বয়সী এই শিশুই বিশ্বকাপের গ্যালারি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত সর্বত্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
কে এই কেইন?
কেইনের জন্ম ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। তিনি লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই হলেও দুজনের বাবা এক নন। ইয়ামালের মা শেইলা এবানা ও বাবা মুনির নাসরাউই আলাদা হয়ে যাওয়ার পর শেইলা নতুন সম্পর্কে জড়ান। সেই সম্পর্ক থেকেই জন্ম হয় কেইনের। অর্থাৎ, লামিন ও কেইন একই মায়ের সন্তান।
দুই ভাইয়ের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের বেশি হলেও তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের শিরোপা জয়ের পর কেইনকে নিয়ে ইয়ামালের উদযাপন সেই সম্পর্কেরই প্রমাণ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই ভাইয়ের একসঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্ত নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে এক সাক্ষাৎকারে ছোট ভাইকে নিয়ে ইয়ামাল বলেন, সে আমার কাছে সবকিছু। অনেক সময় মনে হয়, সে যেন আমার নিজের ছেলের মতো।
এই মন্তব্যই ছোট ভাইয়ের প্রতি ইয়ামালের গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন। বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা গেছে কেইনকে। স্পেন গোল করলেই তার উচ্ছ্বাস, হাত নেড়ে ‘ভামোস’ বলা এবং শিশুসুলভ নানা অভিব্যক্তি ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। ফলে ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় একটি অংশজুড়েই ছিল এই ছোট্ট সমর্থক।

তবে বিশ্বকাপে ভাইরাল হওয়ার আগেই বার্সেলোনার সমর্থকদের কাছে পরিচিত মুখ ছিল কেইন। ইউরো ২০২৪ জয়ের উদযাপন, লা লিগা শিরোপা উৎসব এবং ব্যালন ডি`অর অনুষ্ঠানে ইয়ামালের সঙ্গে দেখা গেছে তাকে। এমনকি লাল গালিচায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বল নিয়ে খেলার একটি দৃশ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
কেইনের নিজস্ব কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট নেই। তবে ইয়ামাল এবং তার মা শেইলা এবানার পোস্টে নিয়মিত দেখা যায় তাকে। বিশেষ করে দুই ভাইয়ের নাচ, খেলাধুলা ও পারিবারিক মুহূর্তের ভিডিও টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে লাখো দর্শকের নজর কেড়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালে কেইনকে ঘিরে তৈরি অসংখ্য ভিডিওও ভাইরাল হয়েছে।

অন্যদিকে, লামিন ইয়ামালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তাও এখন আকাশছোঁয়া। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী প্রায় ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন), আর টিকটকে ৩ কোটির বেশি অনুসারী রয়েছে। বিশ্বকাপের পর এই সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়ছে। ইয়ামালের পোস্টে কেইনকে দেখা গেলেই লাখো লাইক ও কোটি ভিউ পাওয়া এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা।
কেইনের জনপ্রিয়তার কারণ শুধু তিনি ইয়ামালের ভাই—এমনটি নয়। তার স্বতঃস্ফূর্ত হাসি, গোল উদযাপনের উচ্ছ্বাস, বড় ভাইকে দেখে আনন্দ প্রকাশ এবং শিশুসুলভ আচরণ ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করেছে। অনেক সমর্থক মজা করে বলেন, স্পেনের ম্যাচে কেইন গ্যালারিতে থাকলে দল আরও ভালো খেলে। এমনকি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তাকে ‘স্পেনের সবচেয়ে ছোট সুপারফ্যান’ বলেও আখ্যা দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের কাছে লামিন ইয়ামাল একজন সুপারস্টার। তবে তার কাছে পরিবারই সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য কেইন নিজের সরলতা, প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাস দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। মাঠে ইয়ামালের জাদুকরী পারফরম্যান্স যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি গ্যালারিতে ছোট্ট কেইনের হাসি ও উচ্ছ্বাসও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছে।