মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ২০, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনের আওতায় জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ (সোমবার) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় শহিদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। এর আগে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তৎকালীন সময়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান বিচার সামরিক আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিলো এবং সেখানে সুনির্দিষ্ট ফাইন্ডিংস ছিলো। দীর্ঘ সময় ছদ্মনামে পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপনে থাকা এ আসামিকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের পর বর্তমান সেনা আইনেই (মিলিটারি অ্যাক্ট) বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠনের মাধ্যমে এ বিচার প্রক্রিয়া আইনানুগভাবে সম্পন্ন হবে। একই অপরাধে কোনো ব্যক্তিকে সিভিল ল’ ও মার্শাল ল’— দুই ভিন্ন আইনে আলাদাভাবে বিচার বা ট্রায়াল করার আইনি সুযোগ নেই। তাই সেনা আইনেই এ মামলার বিচার সম্পন্ন হবে।’

সীমান্ত সুরক্ষা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

তিনি জানান, মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় বিজিবির প্রস্তাব অনুযায়ী ১০৮ কিলোমিটার সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত হয়নি।

একই সঙ্গে বর্ডার মাইন বা ল্যান্ডমাইনের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধে অত্যাধুনিক ডিটেকশন যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বিজিবিকে সরবরাহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মিয়ানমার সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী যেমন— আরএসও ও আরসার তীব্র অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত চলছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বর্ডার এ ত্রিমুখী সংঘাতের মাঝে এক ধরনের সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ওপার থেকে ছিটকে আসা গোলাগুলি ও মাদকের অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ জারি রেখেছে। ভারতের সঙ্গে সীমানা ব্যবস্থাপনার ধরন ও মিয়ানমার সীমান্তের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ ভিন্ন বিধায় মিয়ানমার সীমান্তকে নিশ্ছিদ্র করা এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।’

বাংলাদেশে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পুশ ইনের অভিযোগ নাকচ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সতর্ক অবস্থানে আমরা প্রতিটি পুশ ইন সফলভাবে প্রতিহত করেছি।’

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা এমন প্রচারণা চালাতে পারে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।’

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সব সময় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করে থাকে। বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিধিমোতাবেক পাঠানো হলে জাতীয়তা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এর বাইরে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজিবির জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন সংগ্রহ, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে কাজ করা হবে।

এ ছাড়া নার্স ও চিকিৎসক নিয়োগসহ বিজিবির বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

Link copied!